Sreelekha Mitra: রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্যুটিংয়ের সময় জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে টলিউড। শ্যুটে তারকা ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, গত সপ্তাহের মঙ্গলবার কর্মবিরতি ডাকা হয়েছিল। এবং সেইদিন একাধিক মিটিং হয়। আর আর্টিস্ট ফোরামের মিটিং থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরোতে দেখা যায় শ্রীলেখা মিত্রকে। অভিনেত্রী নিজে এই নিয়ে মুখ খোলেননি। তবে খবর, সেদিন বেশ অপমানিত হয়েছেন মিটিং চলাকালীন। এদিকে, এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, শ্রীলেখা নাকি বহুবছর ধরে যেভাবে তাঁকে টলিউডে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না, সেই নিয়ে প্রতিবাদ করেন। যাতে প্রসেনজিৎ বিরক্ত হন, কৌশিক সেন শ্রীলেখার কথার প্রতিবাদ করেন, সদ্য স্বামীকে হারানো প্রিয়াঙ্কাও রুষ্ট হন।

এরপর একটি বিবৃতি আসে শ্রীলেখার তরফে, যেখানে সরাসরি শ্রীলেখা জানান, তাঁকে নিয়ে যে খবরটি করা হয়েছে তা অসত্য। এমনকী, কিছু কমেন্টের স্ক্রিনশট তুলে ধরেন শ্রীলেখা, যেখানে সেদিনের মিটিংয়ে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি তুলে ধরেছেন ওদিন কী হয়েছিল তা নিয়ে। সেখান থেকে জানা যায়, প্রসেনজিৎ বা ঋতুপর্ণা কাওকে নিয়ে কোনো কথা বলেননি শ্রীলেখা। যেহেতু তিনি স্বরূপ বিশ্বাসের পর কথা বলতে উঠেছিলে, স্বরূপের কিছু কথার বিরোধিতা করেন, তবে তাঁকে মাঝপথেই থামিয়ে দেওয়া হয়। কৌশিক সেন শ্রীলেখার বিরোধিতা করেন ঠিকই, তবে গোটা ঘটনা নিয়ে প্রিয়াঙ্কা কোনো কথাই বলেনি (লেখা হয়েছিল টেবিলের উপর উঠে নাকি চিৎকার করে ঝামেলা থামান)।
মঙ্গলবার একটি পৃথক পোস্ট এল শ্রীলেখার তরফে। অনেকেইমনে করছেন সেদিনের মিটিংয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার সংযোগ আছে এতে। শ্রীলেখা লেখেন, ‘আমি চুপ করে গেলাম, তোমরা সবাই ভালো থেকো… এখন নিশ্চয়ই খুশি? না না, আমি আত্মহত্যার কথা ভাবছি না— আমি এত সহজে হার মানার মানুষ নই, আমি শ্রীলেখা মিত্র। জানো তো, সংবেদনশীল মানুষরা অনেক সময় ধূর্ত লোকেদের চালাকি বা অদ্ভুত নীরবতা দেখে ট্রিগার হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলে। আমাকে বোকাও বলতে পারো এই যুগে।’
‘ডিপ্লোমেসি আমার রক্তে নেই—আমি অভিনয় করতে এসেছি, কূটনীতি করতে নয়। বাকি সময়ই বলে দেবে কে ঠিক আর কে ভুল করেছে। আমি অপেক্ষা করছি সবার আসল উদ্দেশ্য সামনে আসার জন্য।’, আরও লেখা শ্রীলেখার এই পস্টে।
{{/usCountry}}‘ডিপ্লোমেসি আমার রক্তে নেই—আমি অভিনয় করতে এসেছি, কূটনীতি করতে নয়। বাকি সময়ই বলে দেবে কে ঠিক আর কে ভুল করেছে। আমি অপেক্ষা করছি সবার আসল উদ্দেশ্য সামনে আসার জন্য।’, আরও লেখা শ্রীলেখার এই পস্টে।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, করোনা লকডাউনের সময় সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পরপর ফেসবুক লাইভে এসে প্রথম মুখ খুলেছিলেন শ্রীলেখা। দাবি করেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আর ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর ‘রাজনীতি’র কারণে তিনি কাজ পাননি। একসময়ের দুর্দান্ত কেরিয়ার শেষ করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, বামমনস্ক বলেও তাঁকে ইন্ডাস্ট্রিতে ক্রমাগত কোণঠাসা করা হয় বলে খবর রয়েছে টলিপাড়ার ভিতরে। সঙ্গে ঠোঁটকাটা বদনাম থাকায়, শ্রীলেখার ‘সদ্ভাব’ টলিউডের কিছু মুষ্টিমেয় শিল্পীর সঙ্গেই!