...
...
Next Story

ছিলেন অবসাদে, ছাদ থেকে মিলল সুইসাইড নোট! অনীকের মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে রুদ্রনীল

নিজের অগুনতি ভক্ত, বন্ধু, পরিবারকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন পরিচালক অনীক দত্ত। রেখে গেলেন একগুচ্ছ প্রশ্ন! এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, যে বহুতলের নীচে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়, সেই বহুতলের ছাদ থেকে একটি সুইসাইড নোট এসেছে হাতে। হাসপাতালে প্রয়াত পরিচালককে দেখতে ছুটে এলেন বিজেপি-র সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ।

Published on: May 27, 2026 04:22 PM IST
Advertisement

বুধবার দুপুরের অনীক দত্তের মারা যাওয়ার খবরে রীতিমতো শোকাহত টলিউড ইন্ডাস্ট্রি। শুধু পরিবার-পরিজন বা বন্ধুরা নয়, অনীকের জন্য চোখের জল বাধ মানছে না তাঁর দর্শকদেরও। কদিন আগেই পরিচালক বলেছিলেন ‘যত কাণ্ড কলকাতাতে’ তাঁর শেষ ছবি। যদিও ব্যাপারটা মেনে নিতে একেবারেই রাজি ছিলেন না তাঁর অনুরাগীরা। কিন্তু সেকথা যে এভাবে মিলে যাবে কে ভেবেছিল!

প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্তকে দেখতে হাসপাতালে রুদ্রনীল ঘোষ।
প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্তকে দেখতে হাসপাতালে রুদ্রনীল ঘোষ।

বুধবার দুটো নাগাদ হঠাৎ জানা যায়, হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন অনীক দত্ত। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে হাসপাতাল থেকে খবর আসে, প্রয়াত হয়েছেন তিনি। এখন জানা যাচ্ছে, সেই বহুতলের ছাদ থেকে একটি সুইসাইড নোট হাতে এসেছে পুলিশের। হাতের লেখা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে যে, বিগত কয়েক বছর ধরেই অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার পর যেই হাসপাতালে অনীককে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল।

অনীককে বুধবার যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, তখন মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছেন। রক্তক্ষরণও হয়ে গিয়েছে অনেক। জানা গিয়েছে হিন্দুস্তান পার্কের এই বহুতলটিতে থাকতেন অনীকের স্ত্রী। দুজনে বেশ কিছু বছর ধরেই আলাদা। আজ সকালেই স্ত্রীর ফ্ল্যাটে যান তিনি। এমনকী, পড়ে যাওয়ার পর সন্ধি দত্তই তাঁকে নিয়ে আসা হাসপাতালে।

এদিকে অনীকের মৃত্যুর খবর, তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছন রুদ্রনীল। বরাবরই বামনস্ক অনীক, এদিকে রুদ্রনীল বর্তমানে বিজেপি বিধায়ক। তবে রাজনৈতিক বিশ্বাস আলাদা হলেও, ভালোবাসায় ভাটা পড়েনি। হাসপাতালের বাইরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রুদ্রনীল জানালেন, ‘এই খবরটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি এমন একটা মানুষ ছিলেন, যার সাথে তর্ক আর ঝগড়া করার পর একটা শান্তি আসত। অনীকদা অনীকদাই। এটা অপূরণীয় ক্ষতি যারা পরিবারের মানুষ তাঁদের, যাঁরা বন্ধু তাঁদের। সমবেদনা রইল। অনীকদা নিজস্বতায় বাঁচতেন। আপোষের রাস্তায় যেতেন না। বিজ্ঞাপনে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। একদম অন্য ধারায় বিজ্ঞাপন বানাতেন। সেই থেকেই তাঁর নাম হয়। এরপর ভূতের ভবিষ্যত। ভবিষ্যতের ভূতে আমার সাথে কাজেরও কথা ছিল। ফোন করে আমায় বলেছিলেন, এই রুদ্রতুমি আমায় চিনতে পারত, আমরা একসঙ্গে কাজ করতাম। তারপর অপরাজিত। আমার মনে হয় অনীকদা নিজেই 'অপরাজিত' একজন মানুষ।’ সঙ্গে অনীক দত্তের রহস্য মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রুদ্রনীল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Tulika Samadder

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe