বুধবার দুপুরের অনীক দত্তের মারা যাওয়ার খবরে রীতিমতো শোকাহত টলিউড ইন্ডাস্ট্রি। শুধু পরিবার-পরিজন বা বন্ধুরা নয়, অনীকের জন্য চোখের জল বাধ মানছে না তাঁর দর্শকদেরও। কদিন আগেই পরিচালক বলেছিলেন ‘যত কাণ্ড কলকাতাতে’ তাঁর শেষ ছবি। যদিও ব্যাপারটা মেনে নিতে একেবারেই রাজি ছিলেন না তাঁর অনুরাগীরা। কিন্তু সেকথা যে এভাবে মিলে যাবে কে ভেবেছিল!

বুধবার দুটো নাগাদ হঠাৎ জানা যায়, হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন অনীক দত্ত। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে হাসপাতাল থেকে খবর আসে, প্রয়াত হয়েছেন তিনি। এখন জানা যাচ্ছে, সেই বহুতলের ছাদ থেকে একটি সুইসাইড নোট হাতে এসেছে পুলিশের। হাতের লেখা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে যে, বিগত কয়েক বছর ধরেই অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার পর যেই হাসপাতালে অনীককে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল।
অনীককে বুধবার যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, তখন মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছেন। রক্তক্ষরণও হয়ে গিয়েছে অনেক। জানা গিয়েছে হিন্দুস্তান পার্কের এই বহুতলটিতে থাকতেন অনীকের স্ত্রী। দুজনে বেশ কিছু বছর ধরেই আলাদা। আজ সকালেই স্ত্রীর ফ্ল্যাটে যান তিনি। এমনকী, পড়ে যাওয়ার পর সন্ধি দত্তই তাঁকে নিয়ে আসা হাসপাতালে।
বুধবার সন্ধ্যায় অনিক দত্তের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে৷ তারপরেই জানা যাবে পরিচালকের মৃত্যুর আসল কারণ৷ তাঁদের একমাত্র মেয়ে বিদেশে থাকেন। বিকেলের পরে মেয়ে রাই দত্ত আসবেন, তারপরই দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে৷
{{/usCountry}}বুধবার সন্ধ্যায় অনিক দত্তের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে৷ তারপরেই জানা যাবে পরিচালকের মৃত্যুর আসল কারণ৷ তাঁদের একমাত্র মেয়ে বিদেশে থাকেন। বিকেলের পরে মেয়ে রাই দত্ত আসবেন, তারপরই দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে৷
{{/usCountry}}এদিকে অনীকের মৃত্যুর খবর, তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছন রুদ্রনীল। বরাবরই বামনস্ক অনীক, এদিকে রুদ্রনীল বর্তমানে বিজেপি বিধায়ক। তবে রাজনৈতিক বিশ্বাস আলাদা হলেও, ভালোবাসায় ভাটা পড়েনি। হাসপাতালের বাইরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রুদ্রনীল জানালেন, ‘এই খবরটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি এমন একটা মানুষ ছিলেন, যার সাথে তর্ক আর ঝগড়া করার পর একটা শান্তি আসত। অনীকদা অনীকদাই। এটা অপূরণীয় ক্ষতি যারা পরিবারের মানুষ তাঁদের, যাঁরা বন্ধু তাঁদের। সমবেদনা রইল। অনীকদা নিজস্বতায় বাঁচতেন। আপোষের রাস্তায় যেতেন না। বিজ্ঞাপনে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। একদম অন্য ধারায় বিজ্ঞাপন বানাতেন। সেই থেকেই তাঁর নাম হয়। এরপর ভূতের ভবিষ্যত। ভবিষ্যতের ভূতে আমার সাথে কাজেরও কথা ছিল। ফোন করে আমায় বলেছিলেন, এই রুদ্রতুমি আমায় চিনতে পারত, আমরা একসঙ্গে কাজ করতাম। তারপর অপরাজিত। আমার মনে হয় অনীকদা নিজেই 'অপরাজিত' একজন মানুষ।’ সঙ্গে অনীক দত্তের রহস্য মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রুদ্রনীল।