২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ কলকাতায় ভোট দিতে গিয়ে মেজাজ হারিয়েছিলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। কারণটা ছিল যথেষ্ট হতাশাজনক— ভোটার তালিকায় নায়িকার নামই ছিল না! সেই সময় নির্বাচন কমিশনের গাফিলতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি। আশা ছিল, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সবটা ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু না, ২০২৬-এও নীল বাড়ির লড়াইয়ে অংশ নেওয়া হচ্ছে না তাঁর। কারণ, এবারও হয়ত ভোটার তালিকায় ব্রাত্যই রয়ে গেলেন অভিনেত্রী।

‘নাম তো নিশ্চিত ওঠেনি!’
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিউজ ১৮ ডিজিটালকে স্বস্তিকা সটান জানিয়ে দিলেন, এবারও ভোট দেওয়া হচ্ছে না তাঁর। কিন্তু কেন? গত দুই বছরে কি নাম তোলার সময় পাননি? এর উত্তরে স্বস্তিকার বয়ানে ফুটে উঠল এক অদ্ভুত বৈরাগ্য এবং সময়ের অভাব। তিনি বলেন, ‘ভোটার লিস্টে নাম তো নিশ্চিত ওঠেনি। নাম তোলবার জন্য যে চারটে লোককে ফোন করতে হবে বা বাড়িতে থাকতে হবে, সেই সময় আর সুযোগ দুটোই পাইনি।’
কমিশনের ভুল না নিজের দায়?
২০২৪ সালে যখন নাম ছিল না, তখন স্বস্তিকা ও তাঁর দিদি অজপা ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। প্রশ্ন তুলেছিলেন, বছরের পর বছর ট্যাক্স দেওয়ার পরও কেন নাগরিক হিসেবে তাঁদের এই হেনস্থা? কিন্তু ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট একটু আলাদা। অভিনেত্রী নিজেই স্বীকার করে নিলেন যে, নাম তোলার জন্য প্রয়োজনীয় তদ্বির বা বাড়িতে উপস্থিত থাকার মতো ফুরসত তাঁর হয়ে ওঠেনি। ফলে পেশাদার ব্যস্ততার কারণেই— ভোটার তালিকায় তাঁর নামটা আজও অধরা।
‘পরের বার নিশ্চয়ই দেব’
{{/usCountry}}‘পরের বার নিশ্চয়ই দেব’
{{/usCountry}}ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও স্বস্তিকা এখনই হাল ছাড়ছেন না। তিনি আশাবাদী যে ভবিষ্যতে ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ফিরবে। তিনি জানিয়েছেন, ‘পরের বার ভোটার তালিকায় নাম থাকলে নিশ্চয়ই ভোট দেব।’ তবে ২০২৬-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে যেখানে টলিপাড়ার একঝাঁক তারকা যুযুধান দুই শিবিরে বিভক্ত, সেখানে স্বস্তিকার মতো একজন সচেতন মানুষের ভোট না দিতে পারাটা নিঃসন্দেহে খবরের শিরোনামে জায়গা করে নিল।
উদাসীনতা নাকি ব্যস্ততা?
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর চাউর হতেই শুরু হয়েছে আলোচনা। কেউ বলছেন, ‘একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তাঁর আরও তৎপর হওয়া উচিত ছিল।’ আবার স্বস্তিকা অনুরাগীদের একাংশের মতে, ‘কাজের চাপে সত্যিই হয়তো সময় বের করতে পারেননি অভিনেত্রী।’ তবে কারণ যাই হোক, ২০২৬-এর নীল বাড়ির লড়াইয়ে স্বস্তিকার আঙুলে নীল কালির দাগ দেখা যাবে না— এটাই এখন বড় সত্যি।