ভোট মানেই কি কেবল কাদা ছোড়াছুড়ি আর কথার লড়াই? তৃণমূল সাংসদ দেব আর বিজেপির তারকা সাংসদ তথা ভোজপুরী অভিনেতা মনোজ তিওয়ারি কিন্তু অন্য ছবি দেখালেন। আসলে সৌজন্যের রাজনীতিতে দেব বরাবরই দশে এগারো নম্বর পেয়েছেন। সামনেই নির্বাচন, তার আগে প্রচারে দম ফেলার ফুরসৎ নেই কারও। উত্তরবঙ্গে যাওয়ার পথে বিমানে হঠাৎই মুখোমুখি হয়ে গেলেন দুই তারকা। দল আলাদা, মতাদর্শ ভিন্ন— তবুও সৌজন্যের খাতিরে সেই দূরত্ব যেন মুহূর্তেই ঘুচে গেল।

সাদা-লালের ‘রয়্যাল’ ফ্রেম
মনোজ তিওয়ারির পরনে ছিল উজ্জ্বল লাল রঙের পাঞ্জাবি, আর দেবের পরনে অফ-হোয়াইট শার্ট। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাসিমুখে পোজ দিলেন ক্যামেরায়। দুই তারকার এই সহজ রসায়ন দেখে আপ্লুত অনুরাগীরা। ভক্তদের মতে, ‘রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়, কিন্তু শিল্পী হিসেবে তাঁদের এই একাত্মবোধ প্রশংসনীয়।’
ব্যস্ততার মাঝে সৌজন্য
দেব এখন একদিকে যেমন ঘাটালের সাংসদ হিসেবে রাজ্য রাজনীতি সামলাচ্ছেন, তেমনই সমানতালে সামলাচ্ছেন তাঁর আসন্ন ছবির কাজ। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিজেপি সাংসদ তথা গায়ক-অভিনেতা মনোজ তিওয়ারিও বাংলাজুড়ে গেরুয়া শিবিরের হয়ে প্রচারে ব্যস্ত। বিমানে দেখা হতেই কুশল বিনিময় সারলেন দুজনে। তাঁদের এই ছবি যেন মনে করিয়ে দিল যে, রাজনৈতিক লড়াই ময়দানে থাকলেও ব্যক্তিগত সৌজন্য সবার আগে।
ভক্তদের মাঝে ভোটপ্রচারে দেব
গত কয়েকদিন ধরেই বিধানসভা ভোটের প্রচারে রাজ্য়ের এপ্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন দেব। মিশে যাচ্ছেন ভক্তদের মাঝে। কখনও ঘামে ভেজা নায়ককে জড়িয়ে ধরতে ব্যারিকেড ভেঙে ছুটে আসছে ভক্তরা। কখনও দূর থেকেই গোলাপ ছুড়ছেন মহিলা অনুরাগীরা। দেবের জন্য কেউ আবার গাছের আম হাতে হাজির হচ্ছেন।
মনোজের রাজনৈতিক কেরিয়ার
{{/usCountry}}মনোজের রাজনৈতিক কেরিয়ার
{{/usCountry}}রাজনীতির ময়দানে মনোজ তিওয়ারি কিন্তু বেশ পোড় খাওয়া নেতা। তাঁর শুরুটা হয়েছিল ২০০৯ সালে সমাজবাদী পার্টির হয়ে গোরখপুর থেকে। সেবার প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিলেন যোগী আদিত্যনাথকে। হারের মুখ দেখলেও পিছু হটেননি এই গায়ক-অভিনেতা। ২০১৪ সালে পা রাখেন গেরুয়া শিবিরে। আর সেই থেকেই উত্তর-পূর্ব দিল্লির অপ্রতিদ্বন্দ্বী সাংসদ তিনি। ২০১৬ সালে দিল্লি বিজেপির সভাপতি হিসেবে তাঁর নিয়োগ বুঝিয়ে দিয়েছিল হাইকম্যান্ডের কাছে তাঁর গুরুত্ব কতটা। সেই অভিজ্ঞ রাজনীতিক মনোজের সঙ্গে তৃণমূলের ‘পোস্টার বয়’ দেবের এই সৌজন্য বিনিময় তাই কেবল দুই অভিনেতার সাক্ষাৎ নয়, বরং দুই শিবিরের দুই হেভিওয়েট সাংসদের এক বিরল মুহূর্ত।
দেবের আসন্ন ছবি
চলতি বছর দেবের হাতে একগুচ্ছ প্রোজেক্ট। অগস্টেই দেব হাজির হবেন বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা নিয়ে। এরপর পুজোয় আসছে দেব-শুভশ্রীর সাত নম্বর ছবি। যা এই বছরের সবচেয়ে চর্চিত ও প্রতীক্ষিত বাংলা ছবি। এর পাশাপাশি ডিসেম্বরে টনিক ২ নিয়ে দর্শক দরবারে হাজির হবেন নায়ক।