শনিবার বেশ রাতের দিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো শেয়ার করে নেন উত্তরপাড়ার বিদায়ী বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টোরাজ। নাকা চেকিংয়ের নামে রীতিমতো হেনস্থা করা হয়েছে তাঁকে, এমন দাবি করেন তিনি। আর শ্রীময়ী তাঁর রাগ উগড়ে দেওয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদের সুর শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের গলাতে।

প্রচারে বড়ই ব্যস্ত মমতা। তবে দলের এক নেতার বউকে এভাবে হেনস্থা করার খবর যে তাঁর কানে পৌঁছেছে, বোঝা গেল। রবিবার খণ্ডঘোষের জনসভা থেকে মমতা গর্জে উঠে বললেন, ‘চেকিংয়ের নামে মেয়েদের ব্যাগ খুলে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বের করে দেখা হচ্ছে—এটা মহিলাদের প্রতি স্পষ্ট অসম্মান। আমি খবর পেয়েছি, কাঞ্চন মল্লিকের স্ত্রীকেও এভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নির্বাচনের অজুহাতে যা খুশি তাই করা হচ্ছে। তবে মানুষ এসবের জবাব ভোটের মাধ্যমেই দেবে।’
শ্রীময়ীর বিস্ফোরক অভিযোগ:
কাঞ্চন মল্লিকের বউ শ্রীময়ী জানান যে, টলিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে বাঁদিকে ঘুরতেই নাকা চেকিংয়ের মুখে পড়েন। তখন বেশ রাত। গাড়ি চেক করেই ক্ষান্ত থাকেননি পুলিশকর্মীরা, অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাগেও হাত দেয়।
‘আমার ব্যাগ খুলে তল্লাশি করা হয়। সেখানে মেকআপ কিট, অন্তর্বাস, স্যানিটারি ন্যাপকিন, জলের বোতলসহ আরও কিছু ব্যক্তিগত জিনিস ছিল। মেকআপ কিটটি একটু বড় হওয়ায় সেখানে উপস্থিত এসআই মন্তব্য করেন যে, এই ব্যাগে পাঁচ-দশ হাজার টাকা থাকতে পারে, তাই ভালো করে তল্লাশি করতে বলেন।আমার প্রশ্ন হল— শুধু ব্যাগ তল্লাশি কেন? প্রয়োজনে পুরো দেহ তল্লাশি করা হোক, কিন্তু সেখানে কোনো মহিলা পুলিশ কেন উপস্থিত ছিলেন না?’, জনান শ্রীময়ী।
অভিযোগ, শ্রীময়ী যখন তাঁর শরীর অসুস্থতার কথা বলেন, তখন রীতিমতো ব্যাঙ্গ করা হয়। এমনকী তাঁর ওষুধের পাউচ খুঁজে দেখে কোথাও টাকা লুকিয়ে রাখা আছে কি না!
ভোটের টিকিট পাননি কাঞ্চন:
{{/usCountry}}অভিযোগ, শ্রীময়ী যখন তাঁর শরীর অসুস্থতার কথা বলেন, তখন রীতিমতো ব্যাঙ্গ করা হয়। এমনকী তাঁর ওষুধের পাউচ খুঁজে দেখে কোথাও টাকা লুকিয়ে রাখা আছে কি না!
ভোটের টিকিট পাননি কাঞ্চন:
{{/usCountry}}উত্তরপাড়া থেকে ২০২২ বিধানসভা ভোটে জিতেছিলেন কাঞ্চন মল্লিক। তবে এবারে আর তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি। শোনা যায়, বিধানসভা ভোটে জেতার পর কাঞ্চনের ২য় স্ত্রীর সঙ্গে সমস্যা, ৩য় বিয়ে, ফের বাবা হওয়া, সরকারের টাকায় দামি হাসপাতাল থেকে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে ডেলিভারি, কম বিতর্কে জড়াননি কাঞ্চন মল্লিক। তাঁকে নিয়ে নাকি দলও বীতশ্রদ্ধ। তাই ভোটে লড়ার টিকিট দেওয়া হয় শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে কাঞ্চন যে এখনও ‘দিদির গুড বুকে’ আছেন তা প্রমাণ করল শ্রীময়ীর জন্য প্রতিবাদে সুর চড়ানো।