...
...
Next Story

মুসলিম মেয়েকে বিয়ে, ডিভোর্স হয় বিন্দুর! ছেলেকে আগেই সাবধান করেছিলেন দারা সিং

ফারাহ নাজকে বিয়ে করার আগে তাঁর বাবা যখন বিন্দু দারা সিংকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে পরে সমস্যা হতে পারে, তখন তিনি বুঝতে পারেননি। পরে তার কথাগুলো সত্যি হয়। বিন্দু বলেছিলেন যে তিনি পরে হঠাৎ ধার্মিক হয়ে গিয়েছিলেন।

Published on: Jun 25, 2026 12:54 PM IST
Advertisement

অভিনেতা বিন্দু দারা সিং সম্প্রতি তাঁর বাবা, কিংবদন্তি কুস্তিগীর ও অভিনেতা দারা সিংকে নিয়ে এক আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি জানান, দারা সিং সব ধর্মের মানুষকে সমান সম্মান করতেন। তবে যখন বিন্দু অভিনেত্রী ফারাহ নাজকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তখন বাবা তাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছিলেন। দারা সিংয়ের মতে, হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিয়ে অনেক সময় জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং পরবর্তীতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। সেই সময় বাবার কথা গুরুত্ব না দিলেও পরে জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি তাঁর কথার গভীরতা উপলব্ধি করেছেন বলে জানান বিন্দু।

সব ধর্মকেই সমান মর্যাদা দিতেন দারা সিং

মুসলিম মেয়ের সঙ্গে প্রেম ছেলে বিন্দুর, শুনে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন দারা সিং?
মুসলিম মেয়ের সঙ্গে প্রেম ছেলে বিন্দুর, শুনে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন দারা সিং?

সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বিন্দু দারা সিং তাঁর বাবার মূল্যবোধ সম্পর্কে কথা বলেন। তিনি জানান, তাঁদের পরিবারে কখনো ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের মানসিকতা ছিল না। বিন্দুর কথায়, ‘আমরা এমন পরিবার থেকে এসেছি যেখানে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান—সকলকেই ভাইয়ের মতো মনে করা হয়। আমার বাবা সবসময়ই এই শিক্ষাই দিয়েছেন।’

ফারাহ নাজকে বিয়ের আগে কী বলেছিলেন দারা সিং?

বিন্দু জানান, যখন তিনি ফারাহ নাজকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন বাবা দারা সিং তাঁকে বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

অভিনেতার কথায়, ‘বাবা আমাকে বলেছিলেন, ’বিন্দু, একটা বিষয় মনে রেখো—হিন্দু ও মুসলিমের বিয়ে খুব কঠিন হতে পারে।' আমি তখন ফারাহকে বিয়ে করতে চাইছিলাম। বাবা বলেছিলেন, 'শেষ পর্যন্ত অনেক সময় সমস্যা তৈরি হয়।' আমি বলেছিলাম, 'না, আমাদের ক্ষেত্রে হবে না।' তখন তিনি আবার বলেছিলেন, ‘ভেবে দেখো, কারণ অনেক সময় গণ্ডগোল হয়'।’

বিয়ে নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই, ছেলেই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি

বিন্দুর মতে, ‘বাবা-মা আমাদের পরামর্শ দেন, কিন্তু আমরা অনেক সময় তা শুনতে চাই না। আমাদের মনে হয়, তাঁরা হয়তো বর্তমান পরিস্থিতি বোঝেন না। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের অভিজ্ঞতা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। তাই তাঁদের কথা মন দিয়ে শোনা উচিত। তাঁরা আমাদের কাছে ঈশ্বরের মতো।’

ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই কি বিচ্ছেদের কারণ?

সাক্ষাৎকারে বিন্দুকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁর বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পিছনে ধর্মীয় কারণ কতটা দায়ী ছিল। এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার মতে, সেটাই ছিল প্রধান কারণ। প্রথমদিকে ফারাহ একেবারেই স্বাভাবিক ছিল। পরে হঠাৎ করেই খুব বেশি ধর্মীয় হয়ে পড়ে। আমাদের পরিবারে অতটা ধর্মকেন্দ্রিক পরিবেশ ছিল না। হঠাৎ করে জীবনে ধর্মের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক তৈরি হলে সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমার মনে হয়, এটাই ছিল আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

‘বাবা-মায়ের অভিজ্ঞতাকে অবহেলা করা উচিত নয়’

আলোচনার শেষদিকে বিন্দু আবারও বাবা-মায়ের অভিজ্ঞতার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, অনেক সময় সন্তানরা নিজেদের সিদ্ধান্তকে বেশি গুরুত্ব দেয় এবং মনে করে তারা সবকিছু জানে। কিন্তু বাবা-মা যদি কোনও বিষয়ে সতর্ক করেন, তাহলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বিন্দুর কথায়, ‘অনেকেই মনে করেন তাঁরা খুব বুদ্ধিমান। কিন্তু বাবা-মা যদি কোনও বিষয়ে সতর্ক করেন, তাহলে সেটাকে ঈশ্বরের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত। কারণ তাঁদের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁরা পরামর্শ দেন।’

 
ABOUT THE AUTHOR
Tulika Samadder

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe