ইউভানের বয়স যখন সবে তিন, তখন শুভশ্রীর কোল আলো করে আসে ইয়ালিনি। দুই সন্তানের বয়সের ফারাক কমবেশি ৩ বছরের। শুরু থেকেই দুই সন্তানের পরিকল্পনা ছিল রাজ-শুভশ্রীর। মা হওয়ার পর কাজে ফিরলেও শুভশ্রীর অগ্রাধিকার এখন তাঁর দুই সন্তান। বিশেষ করে ইয়ালিনির জন্মের পর ইউভানের মনে যাতে কোনওভাবেই অবহেলার মেঘ না জমে, তার জন্য বিশেষ কিছু কৌশল মেনে চলেন অভিনেত্রী।

ছোট্ট ‘মা’ ইউভান!
সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ বা শুভশ্রীর শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, বোনকে সামলাতে ইউভান একাই একশো। বোন কাঁদলে তাকে শান্ত করা থেকে শুরু করে আদর করা— ইউভান যেন ‘মাদার ফিগার’। শুভশ্রী জানান, ইউভান মোটেও ইয়ালিনিকে হিংসে করে না, বরং ইউভান বোনকে চোখে হারায়। এক সাক্ষাৎকারে শুভশ্রী বলেছিলেন,
সিবলিং রাইভলরি দূরে রাখতে শুভশ্রীর টোটকা:
দুই সন্তানের মধ্যে ঈর্ষা বা ‘সিবলিং রাইভলরি’ কাটানো সহজ নয়। শুভশ্রী তাঁর অভিজ্ঞতায় যা করেন—
ইয়ালিনির জন্মের অনেক আগে থেকেই ইউভানের মনে বোনের জন্য জায়গা তৈরি করেছিলেন শুভশ্রী। তাঁকে বোঝানো হয়েছিল যে সে বড় ভাই হতে চলেছে এবং তার দায়িত্ব বাড়তে চলেছে। নায়িকা জানিয়েছিলেন, 'বাচ্চাদের মনস্তত্ব বুঝতে আমি বই পড়ছি। উপলব্ধি করেছি ইয়ানিলির জন্মের পর ইউভানকে আরও বেশি সময় দেওয়া প্রয়োজন। কারণ ওর মধ্যে অনুভূতিগুলো তৈরি হয়ে গেছে। ওর যেন মনে না হয় বোন আসার পর ওকে অবহেলা করা হচ্ছে।’
শুভশ্রী আরও জানিয়েছেন, ইয়ালিনির জন্মের আগে যখন হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি, সেই সময় বেডের পাশে ইউভানের ছবি রেখেছিলেন। যাতে ছেলের মনে হয় সে মায়ের সঙ্গেই আছে।
{{/usCountry}}শুভশ্রী আরও জানিয়েছেন, ইয়ালিনির জন্মের আগে যখন হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি, সেই সময় বেডের পাশে ইউভানের ছবি রেখেছিলেন। যাতে ছেলের মনে হয় সে মায়ের সঙ্গেই আছে।
{{/usCountry}}দুই ছেলেমেয়েকে সমালোর ক্ষেত্রে শুভশ্রীর শাশুড়ি-ননদরা তাঁর ভরসা। পাশাপাশি রাজও রাজনৈতিক দায়িত্ব, পরিচালনার পাশাপাশি বাবার ভূমিকাতেও একশোয় একশো। একান্তেও ছেলের সঙ্গে সময় কাটাতে ভোলেন না শুভশ্রী। মাস কয়েক আগেই ছেলে ইউভানকে নিয়ে ছুটি কাটাতে দুবাই গিয়েছিলেন শুভশ্রী। মেয়ে ইয়ালিনি সেইসময় রাজের কাছে কলকাতাতেই ছিল।
রাজ-শুভশ্রীর সুখী সংসার
শুভশ্রী বিশ্বাস করেন, বড় সন্তানকে যদি ছোটর প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলা যায়, তবেই বড় হওয়ার পর তাদের মধ্যে বন্ধন দৃঢ় হবে। ইউভান ও ইয়ালিনির মধ্যে সেই সুন্দর সম্পর্কের বীজটা শুভশ্রী ইতিমধ্যেই বুনে দিয়েছেন। আর তাই তো ইউভান এখন শুধু দাদাই নয়, বোন ইয়ালিনীর ছোট্ট এক অভিভাবকও। নিজের মুখেই সে শুভশ্রীকে জানিয়েছে, ‘তুমি ওর মা নও, আমি ওর মা’।