Sourav Ganguly's Daughter Sana Ganguly: ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন যেমন আকর্ষণীয়, তেমনই তাঁর পরিবার নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ কম নয়। বিশেষ করে তাঁর একমাত্র মেয়ে সানা গঙ্গোপাধ্যায় ঘিরে কৌতূহল বরাবরই তুঙ্গে। জানেন একবার মেয়ের প্রেম-সম্পর্ক নিয়ে কী বলেছিলেন দাদা?
প্রেম, আপত্তি আর অবশেষে ধুমধাম বিয়ে

অবশ্য সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেম ও বিয়ের গল্প কিন্তু বেশ নাটকীয়। হয়ে যায় যে কোন রোম্যান্টিক সিনেমার গল্প। ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ের গল্প মোটামুটি সকলেরই জানা। ১৯৯৬ সালে দু’জনে চুপিসারে রেজিস্ট্রি করে নেন। সেই সময় দুই পরিবার থেকেই আপত্তি ছিল এই সম্পর্কে। তবে সময়ের সঙ্গে সেই অনীহা কাটে। অবশেষে ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিবারের উপস্থিতিতে সামাজিকভাবে জাঁকজমক করে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
এর কয়েক বছর পর, ২০০১ সালের নভেম্বরে তাঁদের জীবনে আসে কন্যা সন্তান সানা। একমাত্র মেয়েকে ঘিরেই সংসার পূর্ণতা পায়। আর পাঁচটা বাবার মতো, সৌরভও কিন্তু মেয়ে অন্ত প্রাণ।
লন্ডনে সানার উড়ান
ছোট থেকে গঙ্গোপাধ্যায় বাড়িতে সকলের আদরে বড় হওয়া মেয়ে সানা এখন নিজের কেরিয়ার গড়তে বিদেশে। বর্তমানে লন্ডনে কর্মরত ২৪ বছরের সৌরভ-কন্যা। তিনি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থায় কাজ করছেন এবং মাস গেলে মোটা অঙ্কের বেতনও ঢোকে ব্যাঙ্কে। যদিও মেয়ে বিদেশে থাকেন, তবুও তাঁর প্রতি বাবার নজর যে সবসময়ই সতর্ক, তা নানা সময়ে সৌরভের কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে।
মেয়ের বিয়ে নিয়ে ‘দাদাগিরি’-তে মজার মন্তব্য
জি বাংলার জনপ্রিয় শো দাদাগিরি-তে, অভিনেত্রী অদিতি চট্টোপাধ্যায় সৌরভকে প্রশ্ন করেছিলেন—'যদি সানা ভবিষ্যতে বিয়ে করতে চায়, তবে সেটি অ্যারেঞ্জ না লাভ ম্যারেজ হবে?' বলে রাখা ভালো, সেই সময় সানার বয়স ছিল মাত্র ১৮।
{{/usCountry}}জি বাংলার জনপ্রিয় শো দাদাগিরি-তে, অভিনেত্রী অদিতি চট্টোপাধ্যায় সৌরভকে প্রশ্ন করেছিলেন—'যদি সানা ভবিষ্যতে বিয়ে করতে চায়, তবে সেটি অ্যারেঞ্জ না লাভ ম্যারেজ হবে?' বলে রাখা ভালো, সেই সময় সানার বয়স ছিল মাত্র ১৮।
{{/usCountry}}মুচকি হেসে সৌরভের জবাব ছিল, ‘ও এখনো ছোট। তবে আশেপাশে কাউকে দেখলে বাবা কিন্তু পিটিয়ে ছত্রাকার করে দেবে!’ তাঁর এই কথায় উপস্থিত সকলে হেসে ওঠেন। এখানেই না থেমে তিনি আরও বলেন, ‘বাবা সব করতে পারবে, মেয়ে পারবে না।’
পড়াশোনায় সানার নজির গড়া সাফল্য
ছোটবেলা থেকে ডনার কাছে নাচ শিখলেও, মায়ের মতো এটিকে পেশা হিসেবে বেছে নেননি। খেলাধুলোতেও যাননি বাবার জুতোয় পা গলিয়ে। বরাবরই শিক্ষাক্ষেত্রে সানার সাফল্য প্রশংসনীয়। ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ লন্ডন থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। স্কুলজীবন কেটেছে কলকাতার বিখ্যাত লোরেটো হাউজ স্কুলে-এ। আইএসসি পরীক্ষায় ৯৮ শতাংশ নম্বর পেয়ে নজর কেড়েছিলেন সানা।
মেয়েকে স্বাবলম্বী করতেই বিদেশে পাঠানো
এক সাক্ষাৎকারে সৌরভ জানিয়েছিলেন, মেয়েকে বিদেশে পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য শুধুই অর্থ উপার্জন নয়। তাঁর কথায়, ‘আমি সানাকে টাকা রোজগারের জন্য পাঠাইনি, পাঠিয়েছি শৃঙ্খলা শেখার জন্য। চাকরি মানুষকে দায়িত্বশীল করে তোলে—সহকর্মীদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, সময়মতো কাজ শেষ করা, নিয়ম মেনে চলা—এই সবই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।’
বাবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক
লন্ডনে গেলে শুধু মেয়ের সঙ্গেই নয়, সানার বন্ধুদের সঙ্গেও সময় কাটাতে দেখা যায় সৌরভকে। সকল বয়সের মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার এই গুণ বরাবরই মহারাজের ব্যক্তিত্বকে আরও আলাদা করে তোলে।
আসছে সৌরভের বায়োপিক
এদিকে খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনের উপর ভিত্তি করে তৈরি বায়োপিকের শুটিং। ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময় ফ্লোরে যাবে ছবি। দাদার চরিত্রে রাজকুমার রাও, আর ডোনার ভূমিকায় থাকছেন সাইনা মলহোত্রা।