Samajwadi Party: পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন নিয়ে সরগরম জাতীয় রাজনীতি। সেই আবহে ভাঙনের ঢেউ উঠেছে মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনাতেও। এরপর কী এবার উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতেও বড়সড়ো ধস নামতে চলেছে? উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী তথা সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি-র প্রধান ওম প্রকাশ রাজভরের সাম্প্রতিক এক দাবি এই আশঙ্কাই উসকে দিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের এই শরিক নেতার দাবি, অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি এবার এক বড়সড়ো ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অখিলেশ যাদবের দলের একাধিক শীর্ষ নেতা নাকি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

যোগী আদিত্যনাথ মন্ত্রিসভার সদস্য তথা সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির প্রধান ওমপ্রকাশ রাজভরের সোশ্যাল মিডিয়া ইঙ্গিতপূর্ণ একটি পোস্ট করেছেন। তাঁর দাবি, অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টিতেও এবার এক ঐতিহাসিক ধস নামতে চলেছে। সপা-র সম্ভাব্য বিদ্রোহী নেতাদের তালিকা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জমা পড়েছে। আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সেই তালিকা দিয়েছেন সপারই এক সাংসদ। মন্ত্রীর আরও দাবি, সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে কিছু দিনের মধ্যেই ভেঙে খান খান হয়ে যাবে অখিলেশ যাদবের দল। এক্স-এ একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করে ওপি রাজভর সরাসরি আঙুল তুলেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ নেতা রামগোপাল যাদবের দিকে। মন্ত্রীর দাবি, পুরনো কিছু দুর্নীতির মামলার জেরে তদন্তের চাপ বাড়তেই তলে তলে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে সপা-নেতৃত্ব।
হিন্দিতে লেখা এক্স পোস্টে ওপি রাজভর জানিয়েছেন, সমাজবাদী পার্টিতে এক মস্ত বড় ভাঙন ধরতে চলেছে। রামগোপাল যাদব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের প্রত্যেকেই জানেন যে খনি কেলেঙ্কারি এবং গোমতী রিভার ফ্রন্ট কেলেঙ্কারির আসল মাস্টারমাইন্ড কে। তদন্তের ফাঁস যত শক্ত হচ্ছে, সপা-র অন্দরে তত উদ্বেগ বাড়ছে।' শুধু এইটুকু বলেই থামেননি রাজভর। মহারাষ্ট্র এবং বাংলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, 'মহারাষ্ট্র কিংবা বাংলার কথা ভুলে যান, উত্তরপ্রদেশের গোটা সমাজবাদী পার্টিই এখন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে।'
অখিলেশ যাদবের প্রতিক্রিয়া
ওপি রাজভরের এই বিস্ফোরক দাবির পর পাল্টা জবাব দিয়েছে সমাজবাদী পার্টিও। সমাজবাদী পার্টি-র প্রধান অখিলেশ যাদব বলেছেন, বিজেপি আগেও অনেক দলে ফাটল সৃষ্টি করেছে এবং উত্তরপ্রদেশে এসপি-র বিধায়ক ও এমএলসিদের দলে ভিড়িয়েছে। তাঁর কথায়, 'দানা অর গানা কাব তক চালেগা ইয়ে আফসানা।' অন্যদিকে, সপা মুখপাত্র মণীশ সিং একটি ভিডিও বার্তায় রাজভরকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে আগে নিজের যোগ্যতা মাপার পরামর্শ দিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর শেয়ার করা ওই ভিডিওতে মণীশ সিংকে বলতে শোনা যায়, 'সমাজবাদী পার্টিকে নিয়ে কোনও মন্তব্য করার আগে ওমপ্রকাশ রাজভরজির উচিত নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং শক্তিটা একবার মেপে নেওয়া। ওঁর পুরো পার্টিতে যতজন কর্মী বা নেতা আছেন, আমাদের দলের একটা ব্লকের কর্মী-সংখ্যার সঙ্গেও তার তুলনা হয় না।'
পশ্চিমবঙ্গে ডামাডোল
{{/usCountry}}ওপি রাজভরের এই বিস্ফোরক দাবির পর পাল্টা জবাব দিয়েছে সমাজবাদী পার্টিও। সমাজবাদী পার্টি-র প্রধান অখিলেশ যাদব বলেছেন, বিজেপি আগেও অনেক দলে ফাটল সৃষ্টি করেছে এবং উত্তরপ্রদেশে এসপি-র বিধায়ক ও এমএলসিদের দলে ভিড়িয়েছে। তাঁর কথায়, 'দানা অর গানা কাব তক চালেগা ইয়ে আফসানা।' অন্যদিকে, সপা মুখপাত্র মণীশ সিং একটি ভিডিও বার্তায় রাজভরকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে আগে নিজের যোগ্যতা মাপার পরামর্শ দিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর শেয়ার করা ওই ভিডিওতে মণীশ সিংকে বলতে শোনা যায়, 'সমাজবাদী পার্টিকে নিয়ে কোনও মন্তব্য করার আগে ওমপ্রকাশ রাজভরজির উচিত নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং শক্তিটা একবার মেপে নেওয়া। ওঁর পুরো পার্টিতে যতজন কর্মী বা নেতা আছেন, আমাদের দলের একটা ব্লকের কর্মী-সংখ্যার সঙ্গেও তার তুলনা হয় না।'
পশ্চিমবঙ্গে ডামাডোল
{{/usCountry}}ওপি রাজভরের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন দেশের আরও দুই বড় বিরোধী দল তীব্র অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখোমুখি। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজয়ের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের অন্দরে অন্যতম বড় সংকট তৈরি হয়েছে। রাজ্য বিধানসভা থেকে শুরু করে দিল্লির সংসদ, দুই জায়গাতেই দলের বিধায়ক ও সাংসদদের একাংশ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। বিধানসভার ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবিতে সওয়াল করে শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের অবাধ্য হয়েছেন। এই জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। অন্যদিকে, লোকসভাতেও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ-কে সমর্থনের কথা ঘোষণা করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এক নতুন দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-র সঙ্গে সংযুক্তির আবেদন জানিয়েছেন, যাতে দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানো যায়।
উদ্ধব ঠাকরের দলে ফাটল?
মহারাষ্ট্রে, উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনাতেও (ইউবিটি) নতুন করে ভাঙন ধরাতে ‘অপারেশন টাইগার’ চরম গতি পেয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন। শিবসেনার একনাথ শিন্ডে শিবির ও বিজেপি মিলে উদ্ধব-পন্থী জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের দিকে টানার যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তাকেই ‘অপারেশন টাইগার’ নাম দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই জল্পনা জোরালো হয় যখন একনাথ শিন্ডে শিবিরের নেতারা জানান যে, উদ্ধব শিবিরের ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ৬ জনই একটি আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিতে চলেছেন এবং পরে তারা একনাথ শিন্ডে শিবিরের সঙ্গে মিশে যাবেন।
নজরে ৬ জন 'বিদ্রোহী' শিবসেনা সাংসদ
সূত্রের খবর, শিবসেনা (ইউবিটি)-র তিনজন সাংসদ-সঞ্জয় যাদব, ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে এবং সঞ্জয় দেশমুখের মতো হেভিওয়েট সাংসদদের মঙ্গলবারই দিল্লিতে দেখা গেছে এবং তারা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ফোনও তুলছেন না। উদ্ধব শিবিরের যে ৬ জন সাংসদ শিন্ডে শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তারা হলেন- সঞ্জয় দিনা পাটিল, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাটিল, ওমরাজে নিম্বলকর, ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে এবং সঞ্জয় যাদব। ৬ জন সাংসদ দল ছাড়লে দলত্যাগ বিরোধী আইন খাটবে না, কারণ তা হবে শিবসেনা (ইউবিটি)-র মোট লোকসভা শক্তির দুই-তৃতীয়াংশ। বর্তমানে উদ্ধবের পাশে মাত্র ৩ জন সাংসদ (অরবিন্দ সাওয়ন্ত, অনিল দেশাই ও রাজাভাবু ওয়াজে) অবশিষ্ট রয়েছেন বলে খবর। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি সত্যিই উদ্ধব শিবিরের সাত জন সাংসদ দলবদল করেন, তাহলে তা লোকসভা নির্বাচনের পর মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আরও একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হবে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সাংসদ প্রকাশ্যে দলত্যাগের ইঙ্গিত দেননি। ফলে জল্পনা, পাল্টা জল্পনা এবং রাজনৈতিক দাবিদাওয়ার মধ্যেই আপাতত উত্তাপ বাড়ছে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে।