অসমে ভেঙে পড়া সুখোই যুদ্ধবিমান থেকে ইজেক্ট করতে না পেরে প্রাণ হারিয়েছেন দুই পাইলট। এই দুর্ঘটনায় নিহত পাইলটদের পরিচয় প্রকাশ করে বায়ুসেনা জানিয়েছে, প্রাণ হারানো পাইলটরা হলেন স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুরগকর। দুই পাইলটের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করেন ভারতীয় বায়ুসেনা। তাঁদের পরিবারের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে বায়ুসেনা। এদিকে কী কারণে এই যুদ্ধবিমানটি ভেঙে পড়ল, তা খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে বায়ুসেনা। এদিকে এই নিহত পাইলটদের মধ্যে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুরগকর অপারেশন সিঁদুরে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

বছর ২৮-এর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুরগকরের বাড়ি ছিল মহারাষ্ট্রের নাগপুরে। মাত্র ১০ দিন আগেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন তিনি। পূর্বেশের বাবা জানান, তাঁর ছেলে অপারেশন সিঁদুরের অংশ ছিলেন। যদিও অপারেশন চলাকালীন যে ছেলে তাতে অংশ নিয়েছেন, তা তাঁর পরিবার জানত না। অপারেশন সিঁদুর স্থগিত হওয়ার ১৫ দিন পরে পূর্বেশের পরিবার জানতে পারে যে তিনি সেই অভিযানের অংশ ছিলেন। পূর্বেশের বাবা রবীন্দ্র বলেন, 'আমার ছেলে দেশের সেবা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। তাঁর থেকে বাকিদের অনুপ্রাণিত হওয়া উচিত। তবে সে মাত্র ৪ বছরই দেশের সেবা করতে পারল।'
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৫ মার্চ ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সুখোই সু-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান 'হারিয়ে যায়' বলে জানা যায়। ৫ মার্চ রাতে অসমের কার্বি আংলং জেলায় সেই যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিমানটি রুটিন ট্রেনিং মিশনে ছিল। ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে জানানো হয়েছে, বিমানটি অসমের জোরহাট থেকে আকাশে উড়েছিল। সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটের দিকে রাডার এবং গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সেই সুখোইয়ের। ভারতীয় বিমান বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুসারে, বিমানটি জোরহাট থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কার্বি আংলং অঞ্চলে ভেঙে পড়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনা তাদের প্রাথমিক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে বিমানটি সময়মতো জোরহাটে ফিরে আসেনি। এই আবহে তাৎক্ষণিকভাবে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি চালিয়ে সেই যুদ্ধবিমানটিকে চিহ্নিত করা হয়।