বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। নাম না করেই জামাতের বিরুদ্ধে 'অভ্যুত্থানের' ছক কষার অভিযোগ করেন রুহুল। তিনি বলেন, 'নির্বাচিত হওয়ার আগেই ওরা সেনানিবাসে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করতে চায়। নির্বাচিত হলে অস্ত্রের ট্রাক নিয়ে প্রবেশ করবে। সারা দেশে ওরা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চায়।'

এদিকে জামাত নেতারা সাম্প্রতিককালে একাধিক নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার উদাহরণ তুলে ধরেন রুহুল। তিনি বলেন, 'যে সকল মেয়েদের স্বামী অত্যাচার করত, তাদের কর্মসংস্থান করে দিয়েছিলেন তাঁরা। মেয়েদের সম্মানিত করেছিলেন তাঁরা, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন। সেই জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমান। তিনি ভোটে জিতলে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আবার নারীদের সম্মানিত করবেন।'
এছাড়া আওয়ামি লিগকেও তোপ দাগেন এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, 'আওয়ামি লিগ সরকার প্রায় ১৮ বছর দেশের ক্ষমতায় ছিল। দেশজুড়ে তারা হত্যা, গুম, লুটপাট করে দেশকে অশান্ত করেছে। বিরোধী মতাদর্শের মানুষকে বসবাস করতে দেয়নি। মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার তারা কেড়ে নিয়েছিল। দিনের ভোট রাতে করত। এবার সবাই সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে।'
এদিকে জামাতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন বিএনপির অপর এক শীর্ষস্থানীয় নেতা তথা মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। ফজলুর রহমান অভিযোগ করলেন, জামাতে ইসলামি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে পাকিস্তানে পরিণত হবে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রের বেশ কিছু জায়গায় পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা হবে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, 'জামাত যদি কোনও কারণে দেশে ক্ষমতায় আসে, এই দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে। তখন ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে পাকিস্তানের মিলিটারি বসে থাকবে। জামাতের রাজাকার ও আলবদররা মিলে দেশটাকে পরাধীন বানাবে। রাস্তা দিয়ে তখন কেউ হাঁটতে পারবে না। এরা মানুষের বাচ্চা না। আল্লাহর দোহাই লাগে, আমাকে ভোট না দিলেও চলবে, কিন্তু এদের ভোট দিয়ে দেশটাকে পাকিস্তান বানিয়ে মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করবেন না। এদের চেয়ে খারাপ এ পৃথিবীতে কেউ জন্মগ্রহণ করেনি।'