হাসিনার বিদায়ের পর একাধিক জনসভায় তিনি স্লোগান তুলেছিলেন - 'দিল্লি না ঢাকা...'। বাংলাদেশের সেই ছাত্র নেতা, ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন গত ১২ ডিসেম্বর। গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এই ওসমান ভারতের বিকৃত একটি মানচিত্র পোস্ট করেছিলেন ফেসবুকে। একটি আলোচনা সভার সেই পোস্টে ভারতের থেকে পঞ্জাব, লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে বিচ্ছিন্ন দেখানো হয়েছিল। সেগুলিকে পাকিস্তানের এলাকা হিসেবে দেখানো হয় মানচিত্রে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের অধিকাংশ এলাকা, গোটা ঝাড়খণ্ড, উত্তরপূর্ব ভারত এবং মায়ানমারের আরাকান প্রদেশের উপকূলীয় এলাকাটিকে 'বৃহত্তর বাংলাদেশ'-এর অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, হাসিনার বিদায়ের পর থেকেই বাংলাদেশের অনেকেই ভারতকে বিচ্ছিন্ন করার 'স্বপ্ন' দেখতে শুরু করেছিল। ওসমান হাদিরও আগে বাংলাদেশের বিকৃত মানচিত্র পোস্ট করে 'বৃহত্তর বাংলাদেশ' গড়ার ডাক দিয়েছিলেন মহম্মদ ইউনুসের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এমনকী প্রাক্তন সো কর্তাদেরও অনেকের মুখে ভারত বিরোধী কথাবার্তা শোনা গিয়েছে প্রতিনিয়ত। আর ওসমান হাদির মতো তরুণ বাংলাদেশি নেতারাও সেই ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে দিবাস্বপ্ন দেখছেন ভারতকে ভাগ করার।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা আট আসনের নির্দল প্রার্থী তথা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মাথায় গুলি করা হয় রাস্তাতেই। বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে হামলার স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে বন্দুকবাজকে পালাতে দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকরের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস দাবি করেন, দোষীদের শীঘ্রই ধরা হবে। তাঁর কথায়, হাদির ওপর এই হামলা, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘত। এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অন্যান্য ছাত্রনেতাদের নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়েও নির্দেশ দেন ইউনুস। এছাড়া হাদিকে গুলি করা ‘অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজরা’ যাতে সীমান্ত পার করে অন্য দেশে পালাতে না পারে, তার জন্যে সীমান্তে কড়া নদরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।