টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ না নেওয়ায় একবার বিসিবির দিকে দায় ঠেলেছিলেন আসিফ নজরুল। আবার পরের দিনই নিজদের বক্তব্য 'সংশোধন' করে জানান, সরকারই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে এই আসিফ নজরুলই পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন ভারতের ম্যাচ বয়কট করার জন্য। সেই পাকিস্তান আবার বাংলাদেশের 'অনুরোধেই' ভারেতর সঙ্গে ম্যাচ খেলতে চলেছে বিশ্বকাপে। এই সবের মাঝে বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা বিরক্ত। এই পরিস্থিতিতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু'জন ক্রিকেটার বাংলাদেশি সংবাদপত্র ডেইলি স্টারকে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন।

এর মধ্যে একজন ক্রিকেটার ডেইলি স্টারকে বলেছেন, 'এটা (আসিফ নজরুলের অবস্থান) হাস্যকর'। আবার অপর একজন বলেছেব, 'তিনি (আসিফ নজরুল) কী বলেছেন, তা আপনিও শুনেছেন। এখানে আমি আর কী বলব? আমরা অসহায়। আমাদের পাশে কেউ নেই। এই বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়ায় আমাদের কোনও হাত নেই। তাই আমরা এখানে কী আর বলব। আমরা কারও থেকেই কোনও সাগায্য পাইনি।'
উল্লেখ্য, এর একদিন আগেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছিলেন, সরকার নয় বরং বিসিবি এবং ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্তেই এবারের টি২০ বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ। তবে তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হতেই সাফাই দিলেন আসিফ নজরুল। এই নিয়ে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন আসিফ। সেখানে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন ইউনুসের উপদেষ্টা। আসিফের দাবি, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। এর জেরেই নাকি বিভ্রান্তি বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি তাঁর পুরনো বক্তব্য থেকে ফের ইউ-টার্ন মারলেন।
এই নিয়ে ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল বলেন, 'আমি জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে বিভিন্ন বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানাই যে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলাটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমি অবশ্যই এই বক্তব্যে অটল আছি। গতকাল বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত কার নেওয়া- এটি কোনও আলোচ্য বিষয় ছিল না, এ-নিয়ে কোনও প্রশ্নও করা হয়নি। সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞেস করেন, বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে কোনো দুঃখ আছে কি না, তখন আমার মনে হয়েছে, এখানে আমার বা সরকারের তো দুঃখের বিষয়টা মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হচ্ছে- ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের আত্মত্যাগ।'
{{/usCountry}}এই নিয়ে ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল বলেন, 'আমি জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে বিভিন্ন বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানাই যে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলাটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমি অবশ্যই এই বক্তব্যে অটল আছি। গতকাল বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত কার নেওয়া- এটি কোনও আলোচ্য বিষয় ছিল না, এ-নিয়ে কোনও প্রশ্নও করা হয়নি। সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞেস করেন, বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে কোনো দুঃখ আছে কি না, তখন আমার মনে হয়েছে, এখানে আমার বা সরকারের তো দুঃখের বিষয়টা মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হচ্ছে- ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের আত্মত্যাগ।'
{{/usCountry}}এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি আসিফ নজরুল লেন, 'বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্রিকেটাররা এবং বিসিবি।' যদিও এর আগে বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে যাওয়া নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কোনও কথা বোর্ড বা সরকার করেনি। এই আবহে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। বিসিবি প্রধান বুলবুলও বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশের দল। এই আবহে এবার আবারও পালটি খেলেন আসিফ নজরুল।