Allahabad High Court: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, তারপর বিয়ে না হওয়ায় ধর্ষণের মামলা দায়ের-এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে দেশের নানা প্রান্তে। এমনই এক অভিযোগে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে উচ্চ আদালত জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দুই ব্যক্তি শারীরিক সম্পর্কে থাকার পর যদি বিয়ে না হয় তাহলে সেই সহবাসকে ধর্ষণ বলে ধরে নেওয়া যায় না। কারণ ওই শারীরিক সম্পর্কে দুপক্ষেরই সম্মতি থাকে।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণের মামলা-সহ নিম্ন আদালতে বিচারাধীন সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া বা মামলা খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। আবেদনকারী সঞ্জয় সরোজ ওরফে সঞ্জয় কুমারের আবেদন মঞ্জুর করে বিচারপতি বিবেক কুমার সিং-এর সিঙ্গেল বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার শুনানি চলাকালীন সমস্ত সওয়াল-জবাব, পরিস্থিতি এবং নথিবদ্ধ তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে সব দিক বিবেচনা করে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, দু’জনের সম্মতিতেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু শুধুমাত্র বিয়ে হয়নি বলেই অভিযোগকারিণী ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন। আদালত এও জানিয়েছে, সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। ৩৪ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি অভিযোগকারিণী প্রতিবার যৌন সম্পর্ক স্থাপনে সম্মতি দিয়ে থাকেন, তা হলে কোনও ভাবেই এ ক্ষেত্রে ধর্ষণের মামলা হয় না।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়, সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া একেবারে বন্ধ করতে হবে। কারণ দীর্ঘ মেয়াদি সম্পর্ক পূর্ণতা না পেলেই সেটা নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করে ফেলাটা আইনের অপব্যবহার। এই ক্ষেত্রে দু'জনের সম্মতিতে সম্পর্ক শুরু হয়েছিল, তারপর সম্পর্কে অবনতি হয়। কোনও মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই সম্পর্ক তৈরি হয়নি। বরং সঞ্জয়কে বিয়ে করতে বাধ্য করার জন্য ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। রাগের বশে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, যেখানে আদতে ধর্ষণের ঘটনাই ঘটেনি। তাই আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই মামলা চালিয়ে যাওয়া কেবল সময়ের অপচয় এবং বিচারপ্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহার ছাড়া আর কিছু নয়।
২০১৯ সালে প্রয়াগরাজের কর্নেলগঞ্জ থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬, ৩২৩, ৫০৪ এবং ৫০৬ ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করেছিলেন অভিযোগকারিণী। তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি আদতে প্রতাপগড়ের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে তিনি প্রয়াগরাজে গিয়েছিলেন একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। সেই সময়ে অভিযুক্ত যুবক তাঁকে (তরুণীর দূর সম্পর্কের আত্মীয়) থাকার জায়গা খুঁজে পেতে সাহায্য করেছিলেন। তার পর থেকেই দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তাঁরা। কিন্তু পাঁচ বছরের মাথায় সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এর পরেই ওই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন অভিযুক্ত। কিন্তু যখনই তিনি বিয়ের কথা বলতেন, তাঁকে মারধর করা এবং হুমকি দেওয়া হতো। তাঁর আরও অভিযোগ, লিভ-ইন সম্পর্কে থাকাকালীন তরুণীর একটি আপত্তিকর ভিডিও তোলা হয়েছিল। যা দেখিয়ে পরবর্তী কালে তাঁকে ব্ল্যাকমেলও করেছেন অভিযুক্ত। তরুণী জানিয়েছিলেন, তিনি ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করার পরে দু’জনের মধ্যে ‘প্রতীকী বিয়ে’ও হয়েছিল দুই পরিবারের লোকেদের উপস্থিতিতে। কিন্তু মেডিক্যাল পরীক্ষায় তরুণীর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্নও মেলেনি।
{{/usCountry}}২০১৯ সালে প্রয়াগরাজের কর্নেলগঞ্জ থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬, ৩২৩, ৫০৪ এবং ৫০৬ ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করেছিলেন অভিযোগকারিণী। তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি আদতে প্রতাপগড়ের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে তিনি প্রয়াগরাজে গিয়েছিলেন একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। সেই সময়ে অভিযুক্ত যুবক তাঁকে (তরুণীর দূর সম্পর্কের আত্মীয়) থাকার জায়গা খুঁজে পেতে সাহায্য করেছিলেন। তার পর থেকেই দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তাঁরা। কিন্তু পাঁচ বছরের মাথায় সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এর পরেই ওই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন অভিযুক্ত। কিন্তু যখনই তিনি বিয়ের কথা বলতেন, তাঁকে মারধর করা এবং হুমকি দেওয়া হতো। তাঁর আরও অভিযোগ, লিভ-ইন সম্পর্কে থাকাকালীন তরুণীর একটি আপত্তিকর ভিডিও তোলা হয়েছিল। যা দেখিয়ে পরবর্তী কালে তাঁকে ব্ল্যাকমেলও করেছেন অভিযুক্ত। তরুণী জানিয়েছিলেন, তিনি ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করার পরে দু’জনের মধ্যে ‘প্রতীকী বিয়ে’ও হয়েছিল দুই পরিবারের লোকেদের উপস্থিতিতে। কিন্তু মেডিক্যাল পরীক্ষায় তরুণীর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্নও মেলেনি।
{{/usCountry}}এই মামলায় ২০২০ সালে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে নিম্ন আদালতে। বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২১ সালে। উভয় পক্ষের বক্তব্য বিশ্লেষণ করার পর উচ্চ আদালত জানায়, সম্পর্কটি বেশ কয়েক বছর ছিল এবং তা সম্মতির ভিত্তিতেই হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় উল্লেখ করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানিয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সহবাসকে তখনই ধর্ষণ বলে গণ্য করা হবে, যখন তা প্রমাণিত হবে যে, প্রতিশ্রুতি প্রথম থেকেই মিথ্যে ছিল। কেবল শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্যই সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই মামলায় অভিযুক্তের তেমন কোনও অভিপ্রায় ছিল না বলেই মেনে নিয়েছে আদালত। বিচারপতি এ কথাও মানতে চাননি যে, পাঁচ বছরের সম্পর্কে প্রতিবারই বিয়ের প্রতিশ্রুতির পরে তরুণী শারীরিক সম্পর্কে সম্মতি দিয়েছেন।