প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে হাতেখড়ি ১৬ বছর বয়সে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ২২ গজ মাতিয়েছেন ৩৮ বছর বয়স পর্যন্ত। এই সময়কাল স্যার গ্যারি সোবার্স ক্রিকেট বিশ্বকে দিয়েছেন ক্রিকেটের একের পর এক ঐতিহাসিক পর্ব! এদিন সেই গ্যারি সোবার্স চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ৮৯ বছর বয়সে এদিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গ্যারি সোবার্স।

স্যার গারফিল্ড সোবার্স, জন্ম ওয়েস্ট ইন্ডিজের বারবাডোসে। যাঁকে ঘিরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট, বিশ্বে একাধিক গর্বের অধ্যায় রচনা করেছে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে পরিবারে গ্যারি ছিলেন পঞ্চম সন্তান। জন্মের পর তাঁর দুই হাতের প্রত্যেকটিতে বাড়তি একটি করে আঙুল ছিল গ্যারির। এমনই একাধিক তথ্য ক্রিকেটের এই কিংবদন্তীকে ঘিরে উঠে আসে। ৫ বছর বয়সে বাবাকে হারানো গ্যারি, কোনও মতেই জীবনে আসা চ্যালেঞ্জের কাছে হার মানতে চাননি।
১৯৩৬ সালে জন্মানো গ্যারির ক্রিকেট বিশ্বে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় ১৬ বছরেই। এরপর ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কার্যত ঝড় তুলে দিয়েছিলেন ২২ গজ কাঁপানো গ্যারি সোবার্স। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেই টেস্টে ৩৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা। তৈরি হয় রেকর্ড, টেস্টে এককভাবে এত রান করা ক্রিকেটার হিসাবে এই বিরল রেকর্ডের মালিক হন গ্যারি।পরে ১৯৯৪ সালে ভেঙেছিলেন গ্যারিরই দেশের অপর কিংবদন্তী, তাঁর নাম ব্রায়ান লারা! এককালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ব্যাটার হিসাবে এক ওভারে ছ’টি ছয় মেরেছিলেন সোবার্স, সেই ঘটনা যুবরাজ-ফ্লিনটফ জমানার বহু আগে!
১৯৭৪ সালে ৩৮ বছর বয়সে ক্রিকেট বিশ্বকে বিদায় জানান সোবার্স। তাঁর অবসরের পর উইসডেন লিখেছিল, ‘সোবার্স মানসিক এবং শারীরিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। যে ক্রিকেট তাঁর জীবনের সমান ছিল, সেই ক্রিকেট সম্পর্কেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। হাঁটুরও চরম ক্ষতি হয়েছিল। নিজের প্রতিভার শিকার হয়েছিলেন সোবার্স।’
{{/usCountry}}১৯৭৪ সালে ৩৮ বছর বয়সে ক্রিকেট বিশ্বকে বিদায় জানান সোবার্স। তাঁর অবসরের পর উইসডেন লিখেছিল, ‘সোবার্স মানসিক এবং শারীরিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। যে ক্রিকেট তাঁর জীবনের সমান ছিল, সেই ক্রিকেট সম্পর্কেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। হাঁটুরও চরম ক্ষতি হয়েছিল। নিজের প্রতিভার শিকার হয়েছিলেন সোবার্স।’
{{/usCountry}}রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলির জীবনের এক বিশেষ টেস্টে ছিল বারবাডোসে। ম্যাচের আগে ভারতীয়দের অনুশীলনের সময় মাঠে পৌঁছল সোবার্স। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। সেই দিনেও সোবার্সকে ঘিরেও রয়েছে এক স্মৃতিমেদুর ঘটনা। সোবার্স ও তাঁর স্ত্রী ভারতীয় দলের অনুশীলনের একটি সেশন দেখতে গিয়েছিলেন। বর্তমান সময়ের তারকা খেলোয়াড়রা তাঁর কাছে ছুটে আসবে,এমনটা প্রত্যাশা না করে সোবার্স গ্যালারি থেকে পুরো অনুশীলনটি দেখেন এবং সেশন শেষ হওয়ার পর মাঠে নেমে আসেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন অধিনায়ক সোবার্স, সেদিন রোহিত ও কোহলি,উভয়ের সঙ্গেই কথা বলে সময় কাটিয়েছিলেন এবং ভারতের তৎকালীন প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড় তাঁকে তরুণ শুভমন গিলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। বিভিন্ন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মধ্যে এটি ছিল এক সহজ ও সম্মানপূর্ণ কথোপকথন।