Bangkok fire: থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি জনপ্রিয় পাবে রবিবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নিমেষের মধ্যে লেলিহান শিখা গ্রাস করল গোটা পাবটিকে। চারদিক ঢেকে গেল কালো ধোঁয়ায়। বাঁচার আশায় জ্বলন্ত দরজা দিয়েই হুড়োহুড়ি করে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছিলেন ভিতরে থাকা মানুষজন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না অনেকেরই। পাবটিতে আচমকা আগুন লেগে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। বহু মানুষ জখম হয়েছেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণস্থল ব্যাংককে এটি অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক নজরে ব্যাংককের জনপ্রিয় পাবে অগ্নিকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

১. জানা গেছে, উত্তর ব্যাংককের ‘না লাডপ্রাও’ নামের একটি পাবে মাঝরাত নাগাদ হঠাৎই আগুন লাগে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। প্রায় ৩০ মিনিটের টানা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, ততক্ষণে বড়সড় ক্ষতি হয়ে গেছে।
২. ঘটনাস্থলের বাইরে সাংবাদিকদের ব্যাংককের গভর্নর চাডচার্ট সিট্টিপুন্ট জানান, আগুন দ্রুত পুরো পাব এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। সিট্টিপুন্ট সাংবাদিকদের বলেন, 'আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাদ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সম্ভবত ধোঁয়াই মৃত্যুর প্রধান কারণ।' তিনি জানান, ঘটনায় ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৬৩ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাবের ভিতরে ঠিক কতজন মানুষ ছিলেন তা স্পষ্ট না হলেও, সংখ্যাটা যে বেশ ভালই ছিল, তা মেনে নিয়েছেন তিনি। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করতে শুরু করেছে।
৩. তদন্তে নেমে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন কর্মকর্তারা। তাঁরা অগ্নিনির্বাপক প্রস্থান পথের (ফায়ার এক্সিট) কাছে বেশ কিছু মৃতদেহ খুঁজে পান। ধারণা করছেন যে, কোনও বাধার কারণে হয়তো সেই পথটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আবার বহু মানুষের দেহ উদ্ধার হয়েছে পাবের পিছনের দিকের শৌচাগার থেকে।
৪. ঘটনার পরই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জানান যে আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। আনুতিনের মতে, ওই পাবে পারফর্ম করা এক সঙ্গীতশিল্পী তাঁকে জানিয়েছেন যে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঠিক আগে তিনি মঞ্চের কাছে থাকা একটি সার্কিট ব্রেকার থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং পুরো জায়গাটি দ্রুত ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
{{/usCountry}}৪. ঘটনার পরই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জানান যে আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। আনুতিনের মতে, ওই পাবে পারফর্ম করা এক সঙ্গীতশিল্পী তাঁকে জানিয়েছেন যে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঠিক আগে তিনি মঞ্চের কাছে থাকা একটি সার্কিট ব্রেকার থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং পুরো জায়গাটি দ্রুত ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
{{/usCountry}}৫. থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের সুচিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, ফরেনসিক দল অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে।
৬. ঘটনাস্থলে প্রথম পৌঁছানো উদ্ধারকর্মীদের অনলাইনে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, আগুন পুরো পাবটিকে গ্রাস করে ফেলেছে এবং প্রবেশপথ দিয়ে প্রচুর ধোঁয়া বের হচ্ছে। ঘন কালো ধোঁয়া রাতের আকাশে ছড়িয়ে পড়ার সময় মানুষকে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। আগুন নেভানোর পর তোলা ছবিতে দেখা যায়, বারের ভেতরের আসবাবপত্র পুড়ে গিয়েছে এবং পুরো অভ্যন্তরীণ অংশটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা।
৭. সুকন্যা ওংওংওয়াই নামের এক স্থানীয় সঙ্গীত শিল্পী জানান, তিনি কাছাকাছি এলাকায় পারফর্ম করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই তিনি দ্রুত পাবের দিকে ছুটে যান, কারণ তখন তাঁর ব্যান্ডের বেশ কয়েকজন সদস্য সেখানে বাজাচ্ছিলেন। তিনি জানান, ব্যান্ডের এক সদস্য নিহত হয়েছেন, আরও তিনজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আরেকজনের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর কথায়, 'ভেতরে থাকা মানুষদের কাছ থেকে যা শুনেছি, তাতে জানা যাচ্ছে যে- আগুন লাগার পরপরই চারপাশ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, ফলে তারা অন্যদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারছিলেন না।'
৮. থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত চালাচ্ছে। বর্তমানে এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে তা সাধারণের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা এত বেশি হওয়ার নেপথ্যে কোনও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ভূমিকা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার সঠিক কারণ সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা বরাবরই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। এর আগেও ২০২২ সালে একটি মিউজিক পাবে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের এবং ২০০৯ সালের নববর্ষের রাতে ‘সানটিকা নাইটক্লাব’-এর বিধ্বংসী আগুনে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনার পর থাইল্যান্ডের সমস্ত রেস্তোরাঁ ও পানশালাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ।