ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পথে আরও এক ধাপ এগোতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কাগজ-কলম, ফাইলের স্তূপ কিংবা দীর্ঘ তথ্য সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি ছেড়ে এবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় হতে চলেছে দেশের জনগণনা। ২০২৭ সালের জনগণনায় প্রথমবার দেশের নাগরিকরা ঘরে বসেই নিজেদের তথ্য নিজেরাই অনলাইনে জমা দিতে পারবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি se.census.gov.in পোর্টালে লগ-ইন করে মাত্র ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিলেই সম্পূর্ণ হবে ‘সেল্ফ-এনুমারেশন’ বা স্ব-গণনার প্রক্রিয়া।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১ অগস্ট থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত দেশের যে কোনও নাগরিক নিজের বৈধ মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এই পোর্টালে নিবন্ধন করতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশনের সময় মোবাইলে একটি ওটিপি পাঠানো হবে। সেই ওটিপি দিয়ে লগ-ইন করার পর নির্দিষ্ট ডিজিটাল ফর্ম পূরণ করলেই জনগণনার কাজ সম্পন্ন হবে। এর ফলে সময় যেমন বাঁচবে, তেমনই তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতাও অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করছে প্রশাসন।
তবে যাঁরা স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজের তথ্য নথিভুক্ত করবেন না, তাঁদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ‘হাউস লিস্টিং’ বা বাড়ি চিহ্নিতকরণের কাজ। এরপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এই বিশেষ অ্যাপের নাম এইচএলও (HLO)।
রাজ্যে এই বিশাল কর্মসূচি সফল করতে প্রায় দেড় লক্ষেরও বেশি প্রশিক্ষিত এনিউমারেটর বা তথ্য সংগ্রহকারীকে কাজে লাগানো হবে। তাঁদের হাতে থাকা স্মার্টফোনই হবে ডিজিটাল জনগণনার প্রধান হাতিয়ার। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে। ইতিমধ্যেই জনগণনা কর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। বিডিও, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফিল্ড ট্রেনারদের ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সাধারণভাবে ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ফিল্ড ট্রেনারদের প্রশিক্ষণের সূচি রয়েছে। যদিও বিভিন্ন জেলায় এই সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। পরে এই প্রশিক্ষকরাই বুথস্তরের কর্মীদের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার, তথ্য আপলোড এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন।
{{/usCountry}}রাজ্যে এই বিশাল কর্মসূচি সফল করতে প্রায় দেড় লক্ষেরও বেশি প্রশিক্ষিত এনিউমারেটর বা তথ্য সংগ্রহকারীকে কাজে লাগানো হবে। তাঁদের হাতে থাকা স্মার্টফোনই হবে ডিজিটাল জনগণনার প্রধান হাতিয়ার। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে। ইতিমধ্যেই জনগণনা কর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। বিডিও, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফিল্ড ট্রেনারদের ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সাধারণভাবে ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ফিল্ড ট্রেনারদের প্রশিক্ষণের সূচি রয়েছে। যদিও বিভিন্ন জেলায় এই সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। পরে এই প্রশিক্ষকরাই বুথস্তরের কর্মীদের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার, তথ্য আপলোড এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন।
{{/usCountry}}এই বিশাল ডিজিটাল কর্মযজ্ঞের ওপর নজরদারি চালাতে প্রতিটি জেলায় তৈরি করা হচ্ছে ডেডিকেটেড সেন্সাস মনিটরিং রুম। ইতিমধ্যেই পুরুলিয়ায় এমন একটি মনিটরিং রুম চালু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের দাবি, এখান থেকেই জেলার প্রতিটি প্রান্তে জনগণনার অগ্রগতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সমস্ত তথ্য সরাসরি সিএমএমএস (Computerised Maintenance Management System) পোর্টালে আপলোড হবে। প্রশাসনের মতে, ডিজিটাল জনগণনার মাধ্যমে শুধু সময় ও খরচই কমবে না, বরং তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা তৈরিতেও অনেক বেশি নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম জনগণনা সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর রূপ পাচ্ছে, যা প্রশাসনিক আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।