Pakistan Gurudwara Demolition: পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে অবস্থিত ১২৫ বছরের ঐতিহাসিক গুরুদ্বারা শ্রী গুরু সিং সভা সাহিব ভেঙে ফেলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। বুধবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই ঘটনাকে 'অত্যন্ত নিন্দনীয় ও পরিকল্পিত ভাঙচুর' বলে অভিহিত করে পাকিস্তান সরকারের কাছে দ্রুত তদন্ত, দোষীদের শাস্তি, গুরুদ্বারটি পুনর্নির্মাণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তানের ফারুকাবাদে অবস্থিত ১২৫ বছরের ঐতিহাসিক ও পবিত্র গুরুদ্বারটি ধ্বংস করার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থাপনার ওপর হামলা নয়, বরং শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির ওপর সরাসরি আঘাত। ভারত এই ঘটনাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা করছে।
রণধীর জয়সওয়াল আরও অভিযোগ করেন, গুরুদ্বারটি ধ্বংস হওয়ার পরও স্থানীয় প্রশাসন কিংবা পাকিস্তানের ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে বলে ভারতের দাবি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মতে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের এবং তাদের উপাসনাস্থলগুলিকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের দায়িত্ব সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক হিংসার পরিবেশের অবসান ঘটানো।
বিবৃতিতে ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পাকিস্তান সরকার যেন অবিলম্বে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে, দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনে এবং গুরুদ্বারটির ভেঙে দেওয়া অংশ দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে। একইসঙ্গে দেশটির সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবন, সম্পত্তি এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
{{/usCountry}}বিবৃতিতে ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পাকিস্তান সরকার যেন অবিলম্বে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে, দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনে এবং গুরুদ্বারটির ভেঙে দেওয়া অংশ দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে। একইসঙ্গে দেশটির সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবন, সম্পত্তি এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
{{/usCountry}}সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ফারুকাবাদে অবস্থিত গুরুদ্বারা শ্রী গুরু সিং সভা গত ২৪ জুন রাতে ভেঙে ফেলা হয়। উনিশ শতকের শেষভাগে শুরু হওয়া সিং সভা আন্দোলনের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত ছিল এই গুরুদ্বারটি। শিখ ধর্মের সংস্কার আন্দোলনের ইতিহাসে এই গুরুদ্বারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
ঘটনার পর পাকিস্তানের শিখ প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁদের দাবি, অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই এবার দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। তার মধ্যেই একটি ঐতিহাসিক শিখ ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনায় নতুন করে কূটনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।