India second vande bharat sleeper train: ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণ এবং দ্রুতগতির ট্রেন পরিষেবার ক্ষেত্রে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এক বৈপ্লবিক নাম। বসার আসন বিশিষ্ট চেয়ার কার বন্দে ভারত ট্রেনের বিপুল সাফল্যের পর, এবার দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে দূরপাল্লার ‘বন্দে ভারত স্লিপার’ (Vande Bharat Sleeper) ট্রেনের এক নতুন অধ্যায়।

আগামী ১৭ জুলাই ভারতের দ্বিতীয় বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন পরিষেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা করতে চলেছেন দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতীয় রেলওয়ের ইতিহাসে স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেন এক বিশাল মাইলফলক। প্রথম স্লিপার সংস্করণের পর এবার রেলমন্ত্রক পঞ্জাব এবং উত্তর প্রদেশকে জুড়তে এই দ্বিতীয় রুটের ঘোষণা করেছে, যা দুই রাজ্যের পর্যটন, সংস্কৃতি এবং ব্যবসায়ী মহলে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
ছেহার্টা থেকে বারাণসী: রুট এবং সময়সূচী
এই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি পঞ্জাবের অমৃতসরের নিকটবর্তী স্টেশন ছেহার্টা থেকে যাত্রা শুরু করে উত্তর প্রদেশের পবিত্র শহর বারাণসী জংশনে গিয়ে পৌঁছাবে। এই রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিদিন হাজার হাজার তীর্থযাত্রী এবং সাধারণ মানুষ বারাণসীর বিশ্বনাথ ধাম এবং অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির দর্শনের জন্য যাতায়াত করেন। ট্রেনটি চালু হলে বর্তমানের রাজধানী বা এক্সপ্রেস ট্রেনের তুলনায় যাত্রার সময় বেশ কয়েক ঘণ্টা কমে যাবে। অত্যাধুনিক গতির কারণে এই দীর্ঘ পথ যাত্রীরা চরম স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে এবং অনেক কম সময়ে অতিক্রম করতে পারবেন।
ভেতরের অন্দরসজ্জা ও রাজকীয় ফিচারসমূহ
নিউজ১৮-এর প্রতিবেদন অনুসারে, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের অন্দরসজ্জা বা ইন্টেরিয়র যেকোনো আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনের সাথে পাল্লা দিতে পারে। যাত্রীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে প্রিমিয়াম করে তুলতে এতে যুক্ত করা হয়েছে বেশ কিছু বৈপ্লবিক ফিচার:
- স্বয়ংক্রিয় সেন্সর ও ঝাঁকুনিহীন যাত্রা: ট্রেনটিতে উন্নতমানের শক অ্যাবজর্বার এবং সাসপেনশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে ট্রেনটি উচ্চ গতিতে ছুটলেও যাত্রীরা কোনো ঝাঁকুনি অনুভব করবেন না।
- বিলাসবহুল স্লিপার বার্থ: ট্রেনের বার্থ বা শয্যাগুলো অত্যন্ত নরম এবং আরামদায়ক উপাদানে তৈরি। আপার বার্থে ওঠার জন্য প্রথাগত লোহার মইয়ের বদলে বিশেষ নকশার সিঁড়ি দেওয়া হয়েছে, যাতে বয়স্ক মানুষদেরও উঠতে সুবিধা হয়।
- মডুলার বায়ো-টয়লেট ও শাওয়ার: ট্রেনের বাথরুমগুলোকে সম্পূর্ণ মডুলার রূপ দেওয়া হয়েছে এবং এতে স্পর্শহীন বা সেন্সর-ভিত্তিক কল ও ফ্ল্যাশ সিস্টেম রয়েছে। প্রিমিয়াম ফার্স্ট এসি কোচে যাত্রীদের জন্য হট-ওয়াটার শাওয়ারের সুবিধাও থাকতে পারে।
- উন্নত এআই সেফটি ও ‘কবচ’ প্রযুক্তি: ট্রেনটিতে ভারতীয় রেলের নিজস্ব স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা ‘কবচ’ (Kavach) ইনস্টল করা আছে। এর ফলে একই ট্র্যাকে অন্য কোনো ট্রেন চলে এলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক চেপে দুর্ঘটনা রুখে দেবে। এছাড়া সিসিটিভি নজরদারি এবং টক-ব্যাক সিস্টেমের মাধ্যমে যাত্রীরা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি গার্ডের সাথে কথা বলতে পারবেন।
সম্ভাব্য ভাড়া এবং টিকিট বুকিং
{{/usCountry}}নিউজ১৮-এর প্রতিবেদন অনুসারে, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের অন্দরসজ্জা বা ইন্টেরিয়র যেকোনো আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনের সাথে পাল্লা দিতে পারে। যাত্রীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে প্রিমিয়াম করে তুলতে এতে যুক্ত করা হয়েছে বেশ কিছু বৈপ্লবিক ফিচার:
- স্বয়ংক্রিয় সেন্সর ও ঝাঁকুনিহীন যাত্রা: ট্রেনটিতে উন্নতমানের শক অ্যাবজর্বার এবং সাসপেনশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে ট্রেনটি উচ্চ গতিতে ছুটলেও যাত্রীরা কোনো ঝাঁকুনি অনুভব করবেন না।
- বিলাসবহুল স্লিপার বার্থ: ট্রেনের বার্থ বা শয্যাগুলো অত্যন্ত নরম এবং আরামদায়ক উপাদানে তৈরি। আপার বার্থে ওঠার জন্য প্রথাগত লোহার মইয়ের বদলে বিশেষ নকশার সিঁড়ি দেওয়া হয়েছে, যাতে বয়স্ক মানুষদেরও উঠতে সুবিধা হয়।
- মডুলার বায়ো-টয়লেট ও শাওয়ার: ট্রেনের বাথরুমগুলোকে সম্পূর্ণ মডুলার রূপ দেওয়া হয়েছে এবং এতে স্পর্শহীন বা সেন্সর-ভিত্তিক কল ও ফ্ল্যাশ সিস্টেম রয়েছে। প্রিমিয়াম ফার্স্ট এসি কোচে যাত্রীদের জন্য হট-ওয়াটার শাওয়ারের সুবিধাও থাকতে পারে।
- উন্নত এআই সেফটি ও ‘কবচ’ প্রযুক্তি: ট্রেনটিতে ভারতীয় রেলের নিজস্ব স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা ‘কবচ’ (Kavach) ইনস্টল করা আছে। এর ফলে একই ট্র্যাকে অন্য কোনো ট্রেন চলে এলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক চেপে দুর্ঘটনা রুখে দেবে। এছাড়া সিসিটিভি নজরদারি এবং টক-ব্যাক সিস্টেমের মাধ্যমে যাত্রীরা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি গার্ডের সাথে কথা বলতে পারবেন।
সম্ভাব্য ভাড়া এবং টিকিট বুকিং
{{/usCountry}}যেহেতু এটি একটি প্রিমিয়াম ও সেমি-হাই স্পিড স্লিপার ট্রেন, তাই এর ভাড়া সাধারণ দূরপাল্লার ট্রেনের (যেমন থ্রি-টায়ার বা টু-টায়ার এসি) তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি হতে পারে। তবে ট্রেনের সময় সাশ্রয়, গতি এবং রাজকীয় কমফোর্টের কথা মাথায় রাখলে এই ভাড়া যৌক্তিক বলেই মনে করছেন টেক ও রেল বিশেষজ্ঞরা। ১৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সবুজ পতাকা দেখানোর পর থেকেই আইআরসিটিসি (IRCTC) অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ যাত্রীদের জন্য টিকিট বুকিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।
ছেহার্টা-বারাণসী বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি ভারতীয় রেলের এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে চলেছে। এটি কেবল দুই রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই মজবুত করবে না, বরং ভারতের সাধারণ রেলযাত্রীদের বিশ্বমানের পরিষেবা উপভোগ করার সুযোগ করে দেবে। ১৭ জুলাইয়ের এই উদ্বোধনের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।