India-Sri Lanka Defence Talks: শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর… পাকিস্তানের গওয়াদর… মায়ানমারের কিয়াউকপিউ… আর এবার কি সেই তালিকায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বঙ্গোপসাগর? ভারতকে ঘিরে চিনের ক্রমবর্ধমান গতিবিধির মাঝেই শ্রীলঙ্কার সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসল ভারত। এই দুই দেশের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্তারা এই বৈঠকে ছিলেন। ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের সঙ্গে এই বৈঠক মুখোমুখি হন শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা সচিব তথা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল সম্পথ থুয়াকোন্থা। বৈঠকে দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পরিকল্পনার (Bilateral Defence Cooperation Plan) অগ্রগতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হয়েছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ বৈঠকের একাধিক ছবি প্রকাশ করে জানিয়েছে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও গভীর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক আলোচনা করেছে। মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পরিকল্পনার বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত সমন্বয়ের মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা (HADR), উপকূলীয় নজরদারি এবং যৌথ সামরিক মহড়ার ক্ষেত্রে দুই দেশ নিয়মিতভাবে একসঙ্গে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই বৈঠক শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি মূল্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং উচ্চপর্যায়ের সামরিক বিনিময় আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশই প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে।
এদিন নয়াদিল্লিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) এবং সামরিক বিষয়ক দফতরের সচিব জেনারেল এনএস রাজা সুব্রহ্মণি প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকে দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তিন বাহিনীর মধ্যে যৌথ সমন্বয় ও একীকরণ, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং চলমান প্রতিরক্ষা সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
{{/usCountry}}এদিন নয়াদিল্লিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) এবং সামরিক বিষয়ক দফতরের সচিব জেনারেল এনএস রাজা সুব্রহ্মণি প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকে দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তিন বাহিনীর মধ্যে যৌথ সমন্বয় ও একীকরণ, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং চলমান প্রতিরক্ষা সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
{{/usCountry}}প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও সমন্বিত করে তোলার লক্ষ্যে যে সংস্কার কর্মসূচি চলছে, সেই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, যৌথ অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একই দিনে অনুষ্ঠিত এই দুটি বৈঠক ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতি এবং অভ্যন্তরীণ সামরিক সংস্কার—দুই ক্ষেত্রেই সরকারের অগ্রাধিকারকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। একদিকে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা, অন্যদিকে দেশের সামরিক শক্তিকে আরও আধুনিক ও সমন্বিত করে তোলার প্রচেষ্টা—এই দুই লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে নয়াদিল্লি।