ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা হল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এই কথোপকথন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই কথোপকথনের পরে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, এই অঞ্চলের গুরুতর পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, 'আমি প্রেসিডেন্ট ডঃ মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং অসামরিক পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি আমি। পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা এবং জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলির মধ্যে একটি।' ফোনালাপের সমময় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ভারতের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন মোদী।

এদিকে মোদীকে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে চায় না। তবে তারা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং ইরানের স্কুল ছাত্রীদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর। এদিকে এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে ব্রিকস গোষ্ঠীর ভূমিকার তাৎপর্য তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। এর আগে ১১ মার্চ রুশ এবং পাক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পরে পেজেশিয়ান জানিয়েছিলেন, তিন শর্তে ইরান যুদ্ধ বন্ধে রাজি হবে- আন্তর্জাতিক স্তরে ইরানের ন্যায্য অধিকার মেনে নিতে হবে; সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো হামলা না ঘটে সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এর আগে সম্প্রতি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা হয় ভারতের এস জয়শঙ্করের। সেই সময় হরমুজ প্রণালী নিয়ে দুই বিদেশমন্ত্রীর কথা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ইরান নাকি ভারতীয় জাহাজগুলিকে যেতে দিচ্ছে। এর আগে গত ১১ মার্চ হরমুজ প্রণালীতে থাইল্যান্ডের একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়েছিল ইরান। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভারতের গুজরাটের দিকে আসছিল। তবে 'পুষ্পক' এবং 'পরিমল' নামক দুটি জাহাজ নাকি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে। জয়শঙ্করের হস্তক্ষেপেই এটা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি করা হয় রিপোর্টে। এছাড়া দেশ মহিমা, দেশ অভিমান, স্বর্ণ কমল, বিশ্ব প্রেরণা, জগ বিরাট, জগ লোকেশ এবং এলএনজিসি অসীম নামের জাহাজগুলি ইতিমধ্যেই আরব সাগরে পৌঁছে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী পার করে। এদিকে জ্বালানি তেল নিয়ে একটি ট্যাঙ্কার গত ১১ মার্চ মুম্বইতে এসেছে। ইরান যুদ্ধের আবহে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল নিয়ে ভারতে আসা প্রথ কোনও জাহাজ ছিল সেটি।