ইরানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করল আমেরিকা। ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলায় ইতিমধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যু হয়েছে। এই আবহে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রসংঘে কার্যত কথা কাটাকাটি হয় আমেরিকা এবং ইরানের প্রতিনিধির মধ্যে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের সময় ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে মারার চেষ্টার অভিযোগ করেন মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ। তিনি বলেন, 'ইরান সরাসরি না হলেও তার সহোযোগীদের মাধ্যমে অসাধু কাজ করে এবং দাবি করে তারা আমেরিকার আগ্রাসনের শিকার। এভাবে তারা সহানুভূতি কুড়োতে চাইছে।'

এদিকে ইরানে মার্কিন হামলা আইনি ভাবে বৈধ বলে দাবি করেন মাইক। তাঁর কথায়, ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করতে পারে না। এদিকে ইজরায়েলের প্রতিনিধিও তোপ দাগেন ইরানকে। ইজরায়েলি কর্তা ড্যানি ড্যানন বলেন, 'কোনও কট্টরপন্থী শাসক যাতে পরমাণু বোমার মালিক না হয়, তা নিশ্চিত করব আমরা।' এদিকে ইরানের কর্তা আমির সৈয়দ ইরাভানি দাবি করেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হামলায় শতাধিক সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই আবহে ইজরায়েল এবং আমেরিকার হামলাকে মানবাধিকার বিরোধী যুদ্ধাপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। জবাবে আবার মার্কিন প্রতিনিধি ওয়াল্টজ বলেন, ইরান নিজেদের কয়েক হাজার মানুষকে মেরেছে। এদিকে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, সংঘাত কমাতে যা করা উচিত, তা করতে হবে সকল পক্ষকেই।
এদিকে যতদিন 'প্রয়োজন', ততদিন মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনী ইরানে হামলা চালিয়ে যাবে বলে অঙ্গীকার করেছেন নেতানিয়াহু। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালেই ইরানে হামলা চালায় ইজরায়েল এবং আমেরিকা। এরই জবাবে পালটা হামলা চালায় ইরান। এদিকে ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে এই সংঘাতের আবহে তেল আবিবগামী এয়ার ইন্ডিয়ার উড়ান মাঝআকাশ থেকে ফিরে আসে ভারতে। ইরান এবং ইজরায়েল উভয় দেশই তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। বিশ্বজুড়ে বহু উড়ান সংস্থা তাদের উড়ান বাতিল করে। জবাবি হামলায় ইরানের তরফ থেকে মিসাইল ছোড়া হয় পশ্চিম এশিয়ার ৬টি দেশে। কাতার, সৌদি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে বিস্ফোরণ শোনা যায়। বাহারিনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও আছড়ে পড়ে ইরানি মিসাইল। এছাড়াও ইজরায়েলের বহু জায়গায় হামলা চালায় ইরান। এরই মাঝে ভারতীয় সময় গভীর রাতে প্রথম দাবি করা হয় খামেনেইর মৃত্যুর বিষয়ে। সকাল হতে হতে ইরান সেই দাবিতে শিলমোহর দিয়েছে।