বিশ্বের অন্যতম দুর্গম ম্যারাথন জয় করে আবারও ভারতের নাম উজ্জ্বল করলেন কলকাতার উদ্যোক্তা, অভিযাত্রী ও এন্ডিউরেন্স রানার রাম গোপাল কোঠারি। ভৌগোলিক উত্তর মেরুতে পূর্ণ ম্যারাথন শেষ করা প্রথম ভারতীয় হওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি এবার চিলির ইস্টার আইল্যান্ড (রাপা নুই)-এ অনুষ্ঠিত ভলকানো ম্যারাথন সম্পূর্ণ করে নতুন ইতিহাস গড়লেন। এই প্রতিযোগিতা শেষ করা প্রথম ভারতীয় হিসেবে নাম লিখিয়েছেন তিনি।

৪২.১৯৫ কিলোমিটারের এই ভলকানো ম্যারাথনের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক সংস্থা রানবুক, যারা উত্তর মেরু ম্যারাথন-সহ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম ও চ্যালেঞ্জিং ম্যারাথনগুলির আয়োজক হিসেবে পরিচিত। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে রাম গোপাল কোঠারি রানবুকের উত্তর মেরু ম্যারাথন এবং ভলকানো ম্যারাথন—দুই ঐতিহাসিক প্রতিযোগিতাই সম্পূর্ণ করা প্রথম ভারতীয় হয়ে উঠলেন। কলকাতা থেকে প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মুম্বই, ইস্তানবুল ও সান্তিয়াগো হয়ে তিনি পৌঁছন ইস্টার আইল্যান্ডে। বিশ্বের অন্যতম বিচ্ছিন্ন জনবসতিপূর্ণ এই দ্বীপে পৌঁছে তিনি তাঁর জীবনের আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৮০তম দেশ ভ্রমণের রেকর্ডও গড়েন তিনি।
প্রতিযোগিতার সরকারি ফল অনুযায়ী, পূর্ণ ম্যারাথনে ২১ জন নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জনই দৌড় সম্পূর্ণ করেন। এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ওশেনিয়ার প্রতিযোগীদের মধ্যে রাম গোপাল কোঠারি ৫ ঘণ্টা ৫ মিনিট ৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে সপ্তম স্থান অর্জন করেন। রাম গোপাল কোঠারি জানান, এই সাফল্য শুধুমাত্র একটি ম্যারাথন শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাঁর জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতীক। কলকাতার একটি অ্যাসবেস্টসের ছাউনি দেওয়া ছোট ঘরে বেড়ে ওঠা এক সাধারণ ছেলের বিশ্বজয়ের গল্প বলেই তিনি এই সাফল্যকে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, 'শুরুটা কখনও গন্তব্য নির্ধারণ করে না।'
ভলকানো ম্যারাথনকে নিজের জীবনের অন্যতম কঠিন দৌড় বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রথম ২১ কিলোমিটার ছিল লাগাতার উতরাই-চড়াইয়ে ভরা পিচের রাস্তা, যেখানে মাঝেমধ্যেই ঘোড়া ও গবাদি পশু রাস্তা পার হচ্ছিল। এরপর শুরু হয় দুর্গম আগ্নেয়গিরির পাথুরে ট্রেইল। প্রায় ৩০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর প্রতিযোগীদের ওরঙ্গো আগ্নেয়গিরির ক্রেটারের দিকে প্রায় ৬০০ মিটার উচ্চতায় উঠতে হয়। খাড়া ও পাথুরে পথে অনেক প্রতিযোগী পিছলে পড়লেও রাম গোপাল কোনও চোট বা পেশিতে টান ছাড়াই দৌড় শেষ করেন।
{{/usCountry}}ভলকানো ম্যারাথনকে নিজের জীবনের অন্যতম কঠিন দৌড় বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রথম ২১ কিলোমিটার ছিল লাগাতার উতরাই-চড়াইয়ে ভরা পিচের রাস্তা, যেখানে মাঝেমধ্যেই ঘোড়া ও গবাদি পশু রাস্তা পার হচ্ছিল। এরপর শুরু হয় দুর্গম আগ্নেয়গিরির পাথুরে ট্রেইল। প্রায় ৩০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর প্রতিযোগীদের ওরঙ্গো আগ্নেয়গিরির ক্রেটারের দিকে প্রায় ৬০০ মিটার উচ্চতায় উঠতে হয়। খাড়া ও পাথুরে পথে অনেক প্রতিযোগী পিছলে পড়লেও রাম গোপাল কোনও চোট বা পেশিতে টান ছাড়াই দৌড় শেষ করেন।
{{/usCountry}}তিনি জানান, উত্তর মেরুর ম্যারাথনের তুলনায় এবার দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়, নিয়মিত শক্তিবর্ধক অনুশীলন, ট্রেডমিলে উচ্চতা অনুকরণ করে হাঁটা এবং সল্টলেক স্টেডিয়ামে বারবার র্যাম্পে ওঠানামার অনুশীলন তাঁর প্রস্তুতির অংশ ছিল। কলকাতার প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াতেই অধিকাংশ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন তিনি। একসময় মাথা ঘুরে চার দিন শয্যাশায়ী থাকলেও ফের অনুশীলনে ফিরে আসেন।
আগামী দিনে দক্ষিণ আমেরিকা সফরের অংশ হিসেবে পেরুর মাচু পিচু, রেনবো মাউন্টেন ও সেক্রেড ভ্যালি ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। দেশের তরুণদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, 'পরিস্থিতিকে নয়, স্বপ্নকে বড় করে দেখো। শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় এবং বড় স্বপ্ন দেখার সাহসই মানুষকে পৃথিবীর সবচেয়ে অসাধারণ জায়গায় পৌঁছে দিতে পারে।'