আবারও দাম বেড়ে গেল বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, দিল্লিতে ১৯ কেজি বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২৮ টাকা বেড়েছে। কলকাতায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৩১ টাকা। সেখানে মুম্বইয়ে পকেট থেকে আরও ২৮.৫ টাকা বেশি খসবে। আর চেন্নাইয়ে প্রতিটি ১৯ কেজি বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২৯.৫ টাকা। অর্থাৎ চারটি মহানগরীর মধ্যে কলকাতায় ১৯ কেজি বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম সবথেকে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভর্তুকিহীন ১৪.২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম যথারীতি অপরিবর্তিত আছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের মাসখানেক আগে দাম পরিবর্তন করা হল না।
মার্চে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কত পড়বে?
১) দিল্লি: ১,৭৪০.৫ টাকা।
২) কলকাতা: ১,৮৪৪.৫ টাকা
৩) মুম্বই: ১,৬৯২ টাকা।
৪) চেন্নাই: ১,৮৯৯.৫ টাকা।
মার্চে ভর্তুকিহীন ১৪.২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কত?
১) কলকাতা: ৮৭৯ টাকা।
২) দিল্লি: ৮৫৩ টাকা।
৩) মুম্বই: ৮৫২.৫ টাকা।
৪) চেন্নাই: ৮৬৮.৫ টাকা।
ইরানের পরিস্থিতি ও গ্যাস সিলিন্ডারের দাম
তারইমধ্যে ইরানে যে সংঘাত তৈরি হয়েছে, তার জেরে বিশ্ব বাজারে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আগামিদিনে ভারতের বাজারে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দর একধাক্কায় বৃদ্ধি পাবে।বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী এবং সরবরাহকারীদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তার ফলেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে।
এমনিতে ভারতে প্রতি মাসের এক তারিখে সাধারণত এলপিজি সিলিন্ডারের দাম পর্যালোচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের গত এক মাসের গড় দাম এবং ডলারের তুলনায় টাকার বিনিময় মূল্যের উপর ভিত্তি করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে যদি উত্তেজনার কারণে প্রোপেন এবং বিউটেনের (এলপিজির মূল উপাদান) দাম বাড়ে, তবে পরবর্তী মাসেই ভারতের বাজারে ১৪.২ কেজি গার্হস্থ্য সিলিন্ডার এবং ১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি প্রায় নিশ্চিত হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষত বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়লে রেস্তোরাঁ ও হোটেলের খাবারের দামও একলাফে বেড়ে যায়, যা পরোক্ষভাবে মূল্যবৃদ্ধির পথ তৈরি করে দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, ইরানে হামলার ঘটনা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পূর্বাভাস। ভারতের বাজার এর থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত নয়। আগামী কয়েক সপ্তাহ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল এবং গ্যাসের দাম কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপরেই নির্ভর করছে ভারতীয় মধ্যবিত্তের রান্নাঘরের ভবিষ্যৎ। আপাতত সাধারণ মানুষের প্রার্থনা একটাই— যুদ্ধ পরিস্থিতি যেন দ্রুত শান্ত হয় এবং রান্নার গ্যাসের দাম যেন সাধ্যের মধ্যেই থাকে।
{{/usCountry}}পরিশেষে বলা যায়, ইরানে হামলার ঘটনা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পূর্বাভাস। ভারতের বাজার এর থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত নয়। আগামী কয়েক সপ্তাহ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল এবং গ্যাসের দাম কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপরেই নির্ভর করছে ভারতীয় মধ্যবিত্তের রান্নাঘরের ভবিষ্যৎ। আপাতত সাধারণ মানুষের প্রার্থনা একটাই— যুদ্ধ পরিস্থিতি যেন দ্রুত শান্ত হয় এবং রান্নার গ্যাসের দাম যেন সাধ্যের মধ্যেই থাকে।
{{/usCountry}}