...
...
Next Story

মেসি বনাম এমবাপে: ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী, জানুন দুই মহাতারকার রেকর্ড ও পারফরম্যান্স স্ট্যাটিসটিকস

Lionel Messi vs Kylian Mbappe: ২০২২ বিশ্বকাপে মেসি এবং এমবাপে দুজনেই ছিলেন অতিমানবীয় ফর্মে। ফাইনালে এমবাপের হ্যাটট্রিক সত্ত্বেও টাইব্রেকারে শেষ হাসি হেসেছিলেন মেসি। এবারের বিশ্বকাপ এমবাপের জন্য যেমন সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার মঞ্চ, তেমনই মেসির জন্য নিজের সিংহাসন ধরে রাখার লড়াই।

Published on: Jul 07, 2026 10:08 AM IST
Advertisement

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ হলো ফিফা বিশ্বকাপ। আর বর্তমান ২০২৬ সালের এই মেগা টুর্নামেন্টে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে দুই মহাতারকার মহাদ্বন্দ্ব—আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি (Lionel Messi) এবং ফ্রান্সের গতিদানব কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappé)। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেই মহাকাব্যিক ফাইনালের স্মৃতি এখনো সবার মনে টাটকা, যেখানে এই দুই পিএসজি সতীর্থ একে অপরের মুখোমুখি হয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ উপহার দিয়েছিলেন। এবারের বিশ্বকাপেও কেন এই দুই ফুটবলারকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হচ্ছে এবং তাঁদের পারফরম্যান্স স্ট্যাটিসটিকস বা রেকর্ড কী বলছে, তা জেনে নিন।

মেসি বনাম এমবাপে: ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী
মেসি বনাম এমবাপে: ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী

লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে—দুজনেই ফুটবলের দুই ভিন্ন প্রজন্মের প্রতিনিধি। একজন তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে এসেও নিজের জাদুকরী ছোঁয়ায় বিশ্বকে মুগ্ধ করছেন, অন্যজন বর্তমান ফুটবলের রাজদণ্ড হাতে নিয়ে ভবিষ্যতের কিংবদন্তি হয়ে ওঠার পথে ছুটছেন।

১. ফুটবলীয় দ্বৈরথ এবং কাতার বিশ্বকাপের প্রতিশোধের মঞ্চ

২০২২ বিশ্বকাপে মেসি এবং এমবাপে দুজনেই ছিলেন অতিমানবীয় ফর্মে। ফাইনালে এমবাপের হ্যাটট্রিক সত্ত্বেও টাইব্রেকারে শেষ হাসি হেসেছিলেন মেসি। এবারের বিশ্বকাপ এমবাপের জন্য যেমন সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার মঞ্চ, তেমনই মেসির জন্য নিজের সিংহাসন ধরে রাখার লড়াই। দুজনেই নিজ নিজ দেশের আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি, তাই গোল্ডেন বুট এবং গোল্ডেন বলের লড়াইয়েও তাঁরা একে অপরের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী।

২. লিওনেল মেসি: অভিজ্ঞতার শেষ জাদু

লিওনেল মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রায় সমস্ত রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন। কাতার বিশ্বকাপে সাতটি গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় (গোল্ডেন বল) হয়েছিলেন। মেসির বর্তমান খেলার ধরণ কিছুটা বদলেছে; তিনি এখন শুধু গোলস্কোরার নন, একজন প্লে-মেকার হিসেবে মাঠ নিয়ন্ত্রণ করেন।

মাত্র ২৭ বছর বয়সেই কিলিয়ান এমবাপে বিশ্বকাপের মঞ্চে যা অর্জন করেছেন, তা পেলে বা মারাদোনার মতো কিংবদন্তিদের সারিতে তাঁকে বসিয়ে দেয়। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২২ সালে রানার্স-আপ হওয়ার পাশাপাশি গোল্ডেন বুট (৮টি গোল) জিতেছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপ স্ট্যাটিসটিকস: এমবাপে ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে ১২টিরও বেশি গোল করে ফেলেছেন। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের করা বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডটি ভাঙার সবচেয়ে বড় দাবিদার তিনি। তাঁর অবিশ্বাস্য গতি (Pace) এবং উইং থেকে ভেতরে ঢুকে নিখুঁত ফিনিশিং করার ক্ষমতা বর্তমান ফুটবল বিশ্বে সেরা।

দলের ওপর প্রভাব

আর্জেন্টিনা দল মানসিকভাবে পুরোপুরি মেসির ওপর নির্ভরশীল। মেসি মাঠে থাকা মানেই দলের বাকি ১০ জন খেলোয়াড়ের আত্মবিশ্বাস দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া। অন্যদিকে, কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স দল তারুণ্য ও শক্তিতে ঠাসা। এমবাপে তাঁর গতি দিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখেন, যার সুবিধা পান দলের অন্য ফরোয়ার্ডরা।

উপসংহার:

বর্তমান ২০২৬ সালের এই ফিফা বিশ্বকাপে ফুটবল বিশ্ব এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এটি হয়তো বিশ্বমঞ্চে লিওনেল মেসির শেষ নৃত্য (Last Dance), অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপের সাম্রাজ্য বিস্তারের সুবর্ণ সুযোগ। শেষ পর্যন্ত কার রণকৌশল এবং পারফরম্যান্স বাজিমাত করবে, তা সময়ই বলবে। তবে এই দুই মহাতারকার লড়াই যে এবারের বিশ্বকাপকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON