প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদলের জল্পনা ফের তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, মঙ্গলবারই কেন্দ্র সরকার মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও রদবদলের ঘোষণা করতে পারে। যদিও কেন্দ্রের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ব্যস্ত সূচি, সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশন এবং জোটের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ—সবকিছু মিলিয়ে এবার মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি সেশেলস সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ৬ থেকে ১১ জুলাই তাঁর ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ১ থেকে ৩ জুলাই জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচির ভারত সফরও নির্ধারিত। এরপরই ১৮ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন। ফলে তার আগেই মন্ত্রিসভার পুনর্গঠন সম্পন্ন করতে চাইতে পারে কেন্দ্র।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে। তাঁর মন্ত্রিত্ব বহাল থাকবে, নাকি দফতর পরিবর্তন করা হবে- তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু, হরদীপ সিং পুরী এবং প্রতিমন্ত্রী বিএল বর্মার ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা জল্পনা রয়েছে। সূত্রের দাবি, একাধিক মন্ত্রীর দফতর বদল হতে পারে। এমনকি ছয়জন রাষ্ট্রমন্ত্রীকেও সরানো বা নতুন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে আরও জোর আলোচনা, বিজেপি এবার এমন কিছু নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় আনতে পারে, যাঁরা প্রশাসনিক দক্ষতা বা সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত। সম্ভাব্য নামের তালিকায় রয়েছেন বিজেপি সাংসদ অরুণ গোভিল, শিবসেনার শ্রীকান্ত শিন্ডে, প্রাক্তন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গভর্নর শক্তিকান্ত দাস, বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, সঞ্জয় দিনা পাটিল, ভিডি শর্মা, তরুণ চুঘ এবং রাঘব চাড্ডা। তবে এই নামগুলির কোনওটিই সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণও তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস, শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) এবং আম আদমি পার্টির একাধিক সাংসদ এনডিএকে সমর্থন জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই নতুন মিত্রদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেও মন্ত্রিসভায় কিছু নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
{{/usCountry}}সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণও তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস, শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) এবং আম আদমি পার্টির একাধিক সাংসদ এনডিএকে সমর্থন জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই নতুন মিত্রদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেও মন্ত্রিসভায় কিছু নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
{{/usCountry}}কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ সূত্রের দাবি, আগামী দিনের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলিতে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব, আঞ্চলিক ভারসাম্য, সামাজিক ও জাতিগত সমীকরণ এবং রাজনৈতিক আনুগত্য—এই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করেই মন্ত্রিসভার রদবদল করা হতে পারে।
এছাড়াও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের দফতরেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েছে। যদিও সরকার বা বিজেপির তরফে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর এটাই হবে মোদী সরকারের প্রথম বড় মন্ত্রিসভা রদবদল, যদি তা বাস্তবায়িত হয়। ফলে শুধু নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তিই নয়, সরকারের আগামী কয়েক বছরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকারেরও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতে পারে এই রদবদল থেকে। এখন সকলের নজর মঙ্গলবারের দিকে। তবে সরকারি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য নাম ও রদবদলের সমস্ত আলোচনা রাজনৈতিক জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।