NCP Sharad Pawar: লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন বিলকে ঘিরে ফের সরগরম জাতীয় রাজনীতি। শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এসপি) কি এই ইস্যুতে কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের প্রতি নরম মনোভাব নিচ্ছে? এমন জল্পনার মধ্যেই দলের সাংসদ তথা শরদ পওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলের মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এনসিপি (এসপি) এখনও ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গেই রয়েছে এবং এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে সুপ্রিয়া সুলে জানান, কেন্দ্র যদি লিখিতভাবে প্রতিটি রাজ্যে লোকসভা ও বিধানসভার আসন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়, তাহলে তাঁদের দল সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তাঁর কথায়, '৫০ শতাংশ বৃদ্ধির শর্তটি লিখিতভাবে দিন, তারপর আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।'
সুলে জানান, সম্প্রতি সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। ওই বৈঠকে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে আলোচনা হয়। সুপ্রিয়ার দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিটি রাজ্যে ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এখনও পর্যন্ত বিলের খসড়া তাঁদের হাতে আসেনি। তাই বিলের প্রকৃত বিষয়বস্তু না দেখে কোনও চূড়ান্ত মতামত দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, 'বিল আমাদের হাতে এলে আমরা তা খুঁটিয়ে দেখব, তারপর দলের অবস্থান জানাব। মহিলাদের সংরক্ষণ বিল যেমন সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়েছিল, তেমনভাবেই এই বিল নিয়েও আমরা দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেব।'
সুপ্রিয়া সুলে আরও বলেন, শুধুমাত্র জনসংখ্যার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন করা হলে দেশের দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতি অবিচার হতে পারে। কারণ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়া রাজ্যগুলি লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব হারাতে পারে। সেই কারণেই প্রতিটি রাজ্যে নির্দিষ্ট হারে আসন বৃদ্ধির প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলে মত তাঁর।
{{/usCountry}}সুপ্রিয়া সুলে আরও বলেন, শুধুমাত্র জনসংখ্যার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন করা হলে দেশের দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতি অবিচার হতে পারে। কারণ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়া রাজ্যগুলি লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব হারাতে পারে। সেই কারণেই প্রতিটি রাজ্যে নির্দিষ্ট হারে আসন বৃদ্ধির প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলে মত তাঁর।
{{/usCountry}}সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল, ডিলিমিটেশন বিলের সমর্থনের বিনিময়ে এনসিপি (এসপি) হয়তো এনডিএ-র কাছাকাছি যাচ্ছে। কিন্তু সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন সুপ্রিয়া সুলে। তিনি বলেন, 'আমাদের দলকে নিয়ে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এগুলির অধিকাংশই সূত্রভিত্তিক খবর। আমরা কোথাও যাচ্ছি না। আমরা ইন্ডিয়া জোটের অংশ ছিলাম, আছি এবং থাকব।'
এদিকে একই দিনে কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমও দাবি করেন, ডিলিমিটেশন বিল পাশ করাতে বিজেপি এনসিপি (এসপি) এবং ডিএমকের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের পর বিজেপি এখন আঞ্চলিক দলগুলির সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করছে, যাতে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পাশ করানো যায়। তিনি এনসিপি (এসপি) এবং ডিএমকেকে এই বিলের সমর্থন না করার আহ্বানও জানান।
প্রসঙ্গত, গত অধিবেশনে ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় পাশ হয়নি। যদিও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে এবং এনডিএর সাংসদ সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবুও সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর জন্য এখনও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের হাতে নেই। ফলে আঞ্চলিক দলগুলির সমর্থন এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই আবহেই সুপ্রিয়া সুলের মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।