Cough Syrup Selling: ওষুধ কেনার নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর কোনও ধরনের সিরাপ কেনা যাবে না ওষুধের দোকান থেকে। কাশির সিরাপ (কাফ সিরাপ)-সহ বিভিন্ন সিরাপজাত ওষুধ কিনতে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধিত চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন দেখাতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে এবং বিদেশে বিষাক্ত কাশির সিরাপ খাওয়ার কারণে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার কয়েক মাস পর এই পদক্ষেপটি নেওয়া হল।

গত ৯ জুন ভারত সরকার এই আদেশটি জারি করে। আদেশ অনুসারে ‘ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫’-এর ‘শিডিউল কে’ থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। যার ফলে কার্যত প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এগুলি সহজে পাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এগুলোকে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের অধীনে আনা হয়েছে। শিডিউল কে’-তে সেই সব ওষুধের তালিকা থাকে যা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসিগুলো বিক্রি করতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, 'এই বিষয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে এটি খতিয়ে দেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে কোনও আপত্তি আসেনি, তাই মন্ত্রক অবশেষে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।'
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে তৈরি কাশির সিরাপ বিক্রি নিয়ে বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে শিশুদের মৃত্যুর পেছনে এ দেশের তৈরি দূষিত বা মানহীন কাশির সিরাপ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে, ওষুধের অপব্যবহার রোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে নজরদারি আরও জোরদার করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা খতিয়ে দেখছে দেশের কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও)।' নতুন বিধি অনুসারে, প্রেসক্রিপশনভিত্তিক সিরাপ বিক্রির ক্ষেত্রে ওষুধের দোকানগুলিকেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোনও গ্রাহক বৈধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া সিরাপ কিনতে চাইলে তা বিক্রি করা যাবে না। বিশেষভাবে কাশির সিরাপের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ায় সাধারণ মানুষের উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই কাশির সিরাপ কিনে ব্যবহার করতেন। নতুন নিয়মে সেই সুযোগ আর থাকছে না। বলে রাখা প্রয়োজন, গত বছর কাশির সিরাপ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক হয়েছিল। রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে অন্তত ২২ শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পরেই সেই বিতর্ক তৈরি হয়। এই সিরাপগুলো ছিল ‘শ্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালস’ উৎপাদিত ‘কোল্ডরিফ’-এর দেশীয় ব্যাচের অন্তর্ভুক্ত। রাজ্যে রাজ্যে তদন্তও চলে। নির্দিষ্ট ওষুধ সংস্থার ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভারতে দুই বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য সমস্ত কাশি এবং সর্দি-কাশির ওষুধ নিষিদ্ধও করা হয় দেশে। এবার সব ধরনের সিরাপের ক্ষেত্রেই কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। এর আগেও উজবেকিস্তান-সহ বিভিন্ন দেশে ভারতে উৎপাদিত দূষিত বা ত্রুটিপূর্ণ সিরাপ পান করার ফলে শিশুদের মৃত্যুর মতো ঘটনা সামনে এসেছিল।