দক্ষিণ এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বিমান বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তে প্রবেশ করে এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি বিবৃতি অনুসারে, ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে এই বিমান হামলা চালানো হয়। তালিবান যুদ্ধবিমানগুলো নাকি পাক রাজধানী ইসলামাবাদের নিকটবর্তী ফৈজাবাদে একটি সামরিক ঘাঁটি, নওশেরায় সামরিক সদর দফতর, জামরুদ ও অ্যাবোটাবাদের সামরিক টাউনশিপের মতো কৌশলগত এলাকায় হামলা চালিয়েছিল।

তালিবান সরকারের মুখপাত্র ইনায়েতুল্লাহ খাওয়ার্জমি অভিযানের সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'বিমান অভিযান সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। আমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি, ঘাঁটি এবং স্থাপনাগুলি ধ্বংস করেছি।' এরই সঙ্গে তালিবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের ঘাঁটিতে হামলার প্রমাণ হিসেবে। তালিবান প্রশাসন এই হামলাকে প্রতিশোধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করছিল। এসব কথিত বিমান আক্রমণ ও আন্তঃসীমান্ত হামলার জবাবে কাবুল সরাসরি হামলার পথ বেছে নিয়েছে।
আফগান সেনাপ্রধান ফাসিহউদ্দিন ফাতরত কঠোর সুরে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পাকিস্তান থেকে যদি আবার কোনও সামরিক তৎপরতা ঘটে, তাহলে তার প্রতিক্রিয়া আরও ভয়াবহ হবে। আফগান জনগণকে উদ্দেশ্য করে ফিতরাত বলেন, 'আমরা আফগানিস্তানের মুসলিম সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করছি যে, আমরা কোনও ধরনের আগ্রাসনের জবাব না দিয়ে ছাড়ব না। যদি এই হামলার পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে আফগান সেনাবাহিনী ইসলামাবাদসহ পাকিস্তানের অন্যান্য বড় শহরগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা করবে।' এদিকে টোলো নিউজের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তালিবানের সেনাবাহিনী কেবলমাত্র বিমান হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তারা সীমান্ত এলাকায় ট্যাঙ্ক, হালকা ও ভারী অস্ত্রও মোতায়েন করেছে। সম্ভাব্য পাল্টা হামলা বা সরাসরি যুদ্ধের ক্ষেত্রে এসব অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর হতে না হতেই আফগানিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী হামলার জবাবে এই এয়ারস্ট্রাইকের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এদিকে ২২ তারিখের পাক হামলার জবাবে আফগানিস্তানও পালটা হামলা চালায় পাকিস্তানের ওপরে।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর হতে না হতেই আফগানিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী হামলার জবাবে এই এয়ারস্ট্রাইকের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এদিকে ২২ তারিখের পাক হামলার জবাবে আফগানিস্তানও পালটা হামলা চালায় পাকিস্তানের ওপরে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেঁধেছিল, তার কেন্দ্রে ছিল 'তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান' (টিটিপি)। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগান তালিবান। আর সেই সব জঙ্গি তারপর পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এদিকে তালিবানের পালটা অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ফেডারেল শাসিত উপজাতি এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে একত্র করে টিটিপি গঠিত হয়। এই গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর জন্ম হয়েছিল। বর্তমানে টিটিপির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
এই আবহে গত ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পাক সীমান্তে সেনা আউটপোস্টে পালটা হামলা চালায় আফগনরা। সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা জওয়ান নিহত বলে দাবি করে তালিবান। এদিকে পাক সেনা দাবি করে, তাদের ২৩ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। তারপর গত ১৪ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। তাতে কমপক্ষে ১৫ আফগান নাগরিক এবং পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর ৬ জন নিহত হয়েছিল। পরে নভেম্বরের শুরুতেও ফের আফগানিস্তানের স্পিন বলডক অঞ্চলে পাকিস্তানের তরফ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। আর এবার আফগান সীমান্তের কাছে টিটিপি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান।