পাকিস্তান জুড়ে চলা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘিরে আরও একবার সরব হল দিল্লি! পাকিস্তানের মদতপুষ্ট ২৩ জনকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জঙ্গি তকমা দেওয়া হয়েছে। এই তকমা তাদের ইউএপিএ অ্যাক্টের আওতায় দেওয়া হয়েছে। এই ২৩ জঙ্গির মধ্যে কেউ লস্কর-ই-তৈবা বা কেউ জইশ-ই-মহম্মদের মতো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

জঙ্গি তকমার আওতায় থাকা এই ২৩ জনের মধ্যে ১৭ জন পাকিস্তানের, অন্যদিকে, ৬ জন রয়েছে ভারতীয়, যারা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর থেকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালায় বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, এই ‘Unlawful Activities (Prevention) Act’ বা ইউএপিএ লাগু হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করে থাকে প্রশাসন। পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর থেকে ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ও আর্থিক পদক্ষেপ জোরদার করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে সক্ষম করে তোলে এই ইউএপিএ অ্যাক্ট। এই পদক্ষেপটি ভারতের শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (এনআইএ) এবং অন্যান্য সংস্থাকে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সম্পদ জব্দ করা, অর্থায়নের পথ বন্ধ করা, অস্ত্র লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা প্রদান করে।
কী কী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ?
এই ২৩ জন জঙ্গির বিরুদ্ধে ভারত বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, এরা মূলত, যুবকদের সন্ত্রাসের পথে নিয়ে যায়, সীমান্তপারের অনুপ্রবেশ ঘটায়, সন্ত্রাসে মদতের ফান্ড জোগাড় করে, অস্ত্র সরবরাহ করে। এছাড়াও নিষিদ্ধ কিছু জঙ্গি সংগঠনকে সমর্থন করে। এই ২৩ নাম যুক্ত হওয়ায়, এনআইএর জঙ্গি তকমার আওতায় মোট ৮০ জন এল। সরকারের মতে, নতুন করে চিহ্নিত ব্যক্তিরা ভারতে সন্ত্রাসী নিয়োগ, সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ, অস্ত্র চোরাচালান, অর্থায়ন ছাড়াও প্রশিক্ষণ, অপপ্রচার, ড্রোন-সহায়তায় অস্ত্র ও মাদক সরবরাহ, লজিস্টিক সহায়তা এবং সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে জম্মু ও কাশ্মীরে বিদেশি সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশে সহায়তা করা এবং পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকাঠামো পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।