ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে আরএসএস (RSS)-এর প্রাদেশিক কার্যালয়ে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে নেমে পুলিশ দাবি করেছে, এই হামলার ছক কষা হয়েছিল দুবাইয়ে এবং ধৃত অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তত একজনের সঙ্গে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের যোগাযোগ ছিল। ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে রাঁচির নিবরণপুর এলাকায় অবস্থিত আরএসএস কার্যালয় লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখ ঢেকে আসা দুই ব্যক্তি ভবনের দিকে পেট্রোল বোমা ছুড়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি, তবে ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
তদন্তে নেমে রাঁচি পুলিশ ও বিশেষ তদন্তকারী দল তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের নাম সইফ আনসারি, আমন আনসারি এবং সায়েম সুজান বলে জানা গিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, হামলার পরিকল্পনা স্থানীয়ভাবে হয়নি; বরং দুবাইয়ে বসেই গোটা অপারেশনের নকশা তৈরি করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সইফ আনসারি আগে দুবাইয়ে এসি মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় রানা হুসেন ও পাকিস্তানি হ্যান্ডলার শাহবাজ আলম ওরফে ভট্টির সঙ্গে। তদন্তকারীদের দাবি, দুবাইয়ে থাকাকালীনই সইফের ‘ব্রেনওয়াশ’ করা হয় এবং পরে তাকে ভারতে ফিরে এসে হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, হামলার পর তার ভিডিও তৈরি করে পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলার শাহবাজ ভট্টির কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এর ফলে গোটা ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ এবং সন্ত্রাসদমন শাখা। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, হামলার জন্য প্রয়োজনীয় কাচের বোতল, পেট্রোল এবং অন্যান্য সামগ্রী রাঁচির স্থানীয় বাজার থেকেই কেনা হয়েছিল। পরে সেগুলি ব্যবহার করে পেট্রোল বোমা তৈরি করা হয়। ধৃতদের মধ্যে একজন আগে থেকেই আরএসএস কার্যালয়ের রেকি করেছিল বলেও অভিযোগ।
{{/usCountry}}সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, হামলার পর তার ভিডিও তৈরি করে পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলার শাহবাজ ভট্টির কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এর ফলে গোটা ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ এবং সন্ত্রাসদমন শাখা। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, হামলার জন্য প্রয়োজনীয় কাচের বোতল, পেট্রোল এবং অন্যান্য সামগ্রী রাঁচির স্থানীয় বাজার থেকেই কেনা হয়েছিল। পরে সেগুলি ব্যবহার করে পেট্রোল বোমা তৈরি করা হয়। ধৃতদের মধ্যে একজন আগে থেকেই আরএসএস কার্যালয়ের রেকি করেছিল বলেও অভিযোগ।
{{/usCountry}}এদিকে তদন্তে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সমর্থিত নেটওয়ার্ক এবং তথাকথিত তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তানের সম্ভাব্য যোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনও চূড়ান্তভাবে কিছু ঘোষণা করা হয়নি, তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সব মিলিয়ে, একটি পেট্রোল বোমা হামলার তদন্ত ক্রমশ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তানি হ্যান্ডলার এবং দুবাই-ভিত্তিক ষড়যন্ত্রের দিকে মোড় নেওয়ায় ঘটনাটি জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্কের হদিস মেলে কি না, সেদিকেই নজর গোটা দেশের।