RSS Registration-Funding Row: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর সংগঠনের আইনি ভিত্তি, নিবন্ধনের নথি এবং আয়ব্যয়ের হিসাব জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়ঙ্ক খাড়গে। এবার বিষয়টি নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। তিনি বলেছেন, এখন যে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাই এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া বা জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

প্রিয়ঙ্ক খাড়গের চিঠি প্রসঙ্গে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, সংস্থার কোনও কিছুই গোপন নয়। তাঁর কথায়, 'আমার জবাব দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। আমরা খোলা মাঠে কাজ করি। মানুষকে ডেকে আমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে জানাই। আমাদের লুকোনোর কিছু নেই। এগুলো আসলে রাজনীতি এবং এই সব কৌশল অবলম্বনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এসবে অভ্যস্ত। সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার মাত্র ১০-১৫ বছর পর থেকেই আমাদের এই সমস্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। আমরা এতে অভ্যস্ত...।' তিনি আরও বলেন, 'হিন্দু ধর্ম রেজিস্টার্ড নয়। এমন অনেক কিছুরই রেজিস্ট্রেশন নেই...যাদের সরকারি অনুদানের প্রয়োজন পড়ে, তারাই রেজিস্ট্রেশন করায়।' আরএসএস প্রধানের কথায়, 'সরকার আমাদের দু'বার নিষিদ্ধ করেছিল। আর সেই নিষেধাজ্ঞা একবার আদালতের নির্দেশে এবং আরেকবার সত্যাগ্রহের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছিল। ফলে, সরকার খুব ভালো করেই জানে যে আরএসএস-এর অস্তিত্ব রয়েছে। তারা যদি আরএসএস-কে নিষিদ্ধ করেই থাকে, তবে তার স্পষ্ট অর্থ হলো তারা এর অস্তিত্বকে স্বীকার করে নিয়েছে...।'
তিনি আরও বলেন, 'এই সবকিছুই আসলে রাজনীতি, গুরুত্ব দেওয়ার মতো কিছু নয়। তারা একদিকে যেমন সঙ্ঘের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তেমনই অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু তা আর সম্ভব নয়, কারণ মানুষ আমাদের চেনে।' আরএসএস প্রধানের দাবি, গত একশো বছর ধরে সংগঠনটি দেশে কাজ করে চলেছে, অথচ এতদিন কেউ তাদের নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সময়ে এই বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই সামনে আনা হচ্ছে।
প্রিয়ঙ্ক খাড়গের খোলা চিঠি
{{/usCountry}}তিনি আরও বলেন, 'এই সবকিছুই আসলে রাজনীতি, গুরুত্ব দেওয়ার মতো কিছু নয়। তারা একদিকে যেমন সঙ্ঘের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তেমনই অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু তা আর সম্ভব নয়, কারণ মানুষ আমাদের চেনে।' আরএসএস প্রধানের দাবি, গত একশো বছর ধরে সংগঠনটি দেশে কাজ করে চলেছে, অথচ এতদিন কেউ তাদের নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সময়ে এই বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই সামনে আনা হচ্ছে।
প্রিয়ঙ্ক খাড়গের খোলা চিঠি
{{/usCountry}}মোহন ভাগবতকে সম্প্রতি দু’পাতার চিঠি লেখেন প্রিয়ঙ্ক খাড়গে। চিঠিতে তিনি জানান, কর্ণাটকে আরএসএস-এর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। সেখানে ৬০০০০ শাখা রয়েছে তাদের। আনুষঙ্গিক কাজকর্ম চালু রয়েছে। এত বড় একটি সংস্থাকে আইনি তদারকির বাইরে রাখা সম্ভব নয়। খাড়গের কথায়, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রে কোনও সংগঠন, সে যতই পুরনো হোক, যত বড়, যত প্রভাবশালী হোক না কেন, জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। প্রত্যেক নাগরিক,সংগঠন, প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থা আইনি মেনে চলবে বলেই প্রত্যাশিত।’ আরএসএস-এর শতবর্ষ উপলক্ষে অভিনন্দন জানিয়েই ভাগবতকে চিঠিটি লেখেন খাড়গে। তবে চিঠিতে একাধিক বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। লেখেন, ‘আরএসএস-এর সর্বোচ্চ এবং সিদ্ধান্তকারী সংস্থা অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভার ২০২৫-’২৬ কর্ণাটক রিপোর্ট বলছে, ১২৭টি দৈবিক শাখা, ১৩৮৯টি সাপ্তাহিক সমাবেশ, ৬০টি মাসিক মণ্ডলী, ২১৯৪টি সমাজ উৎসব, যাতে ১৯.৬১ লক্ষ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন) রয়েছে। পাশাপাশি ৫৬২টি রুট মার্চের আয়োজন করেছে, যাতে ইউনিফর্ম পরা ২.২১ লক্ষ মানুষ অংশ নেন। এত বিশাল ব্যাপ্তি যাদের, যাদের এত প্রভাব, আইনি মর্যাদা, নথিভুক্তিকরণ, পদাধিকারী ব্যক্তিবর্গ, অর্থনৈতিক তহবিল, খরচ-খরচা, আয়কর এবং গণকর্মসূচি সংক্রান্ত তথ্য মানুষের কাছে পেশ করা উচিত তাদের।’
বেশ কিছু প্রশ্নও তুলেছেন কর্ণাটকের মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘সাধারণ নাগরিক থেকে শ্রমিক সংগঠন সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, মন্দির এবং বিভিন্ন সংস্থাকে নাম নথিভুক্ত করতে হয়, আইন অনুযায়ী তথ্য প্রকাশ করতে হয়, তাহলে আরএসএস কেন সেই নিয়মের বাইরে হবে? শতবর্ষ পূর্তিতে আরএসএস-এর উচিত দায়িত্বশীলতা সহযোগে সংবিধান মেনে চলা, নাম নথিভুক্ত করা, যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করা। পাশাপাশি, তাদের উচিত কর দেওয়া, সাবংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে স্বচ্ছ ভাবে কাজকর্ম চালানো।’