জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করা আট জঙ্গিকে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সম্প্রতি। আর এরপরই দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা দেশের বড় বড় শহরগুলিতে আইইডি হামলার ষড়যন্ত্র করছে। দিল্লির চাঁদনী চকে অবস্থিত মন্দিরও তাদের নিশানায় রয়েছে। বলা হচ্ছে, ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি মসজিদে হামলার প্রতিশোধ নিতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। কয়েক মাস আগেই দিল্লির লালকেল্লার কাছে একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি। সেই হামলায় ১৫ জনের মৃত্যু ঘটেছিল।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পর্শকাতর এলাকায় ব্যাপক হারে আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লিতে প্রবেশকারী প্রতিটি গাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং পরিত্যক্ত গাড়িগুলির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তা কর্মীরা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে শহরের প্রতিটি এলাকার উপর রিয়েল টাইম নজর রাখছেন। এর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক ও দোকানদারদের সতর্ক করার জন্য পুলিশ প্রশাসন বাজার ও আবাসিক কল্যাণ সমিতিগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করছে। এছাড়া হোটেল, গেস্ট হাউস, শপিং মল এবং সিনেমা হলগুলিতেও ব্যাপক যাচাই অভিযান চালানো হচ্ছে। এছাড়া সিম কার্ড ব্যবসায়ী ও রাসায়নিক দোকানগুলোতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি ভাড়াটিয়া, গৃহকর্মী এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন জোরদার করা হয়েছে দিল্লিতে।
এদিকে সম্প্রতি দিল্লির বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে দিল্লি মেট্রো নেটওয়ার্কে উস্কানিমূলক পোস্টার লাগানো হচ্ছিল। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই এই মডিউলটির পর্দা ফাঁস হয়েছে। এই পোস্টারগুলিতে কাশ্মীর নিয়ে উস্কানিমূলক এবং আপত্তিকর বক্তব্য লেখা থাকছিল। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল যখন এই পোস্টারগুলির উৎস সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করে, তখন তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে থাকা এই জঙ্গি নেটওয়ার্কের সাথে যোগ পান। এরপরে অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হল দুই রাজ্য থেকে। গ্রেফতার হওয়া আট সন্দেহভাজনের মধ্যে ছয়জনকে তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুর জেলার বিভিন্ন পোশাক কারখানা থেকে ধরা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও দু'জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে যে ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও আছে। তারা তাদের পরিচয় গোপন করার জন্য ভুয়া আধার কার্ড ব্যবহার করছিল।
তদন্তকারীদের মতে, এই সন্দেহভাজনরা পাকিস্তানি গুপ্তচরের নির্দেশে ভারতে একটি বড় জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করছিল। অভিযান চলাকালীন, পুলিশ ৮টি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করেছে। ধৃতদের সঙ্গে বিদেশি যোগের বিষয়ে আরও প্রমাণ সংগ্রহ করছে দিল্লি পুলিশ। এই আবহে ধৃতদের ডিজিটাল ডিভাইসগুলির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। ধৃত সন্দেহভাজনদের ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দিল্লিতে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে দিল্লি এনে। এই মডিউলের অর্থের উৎস এবং আন্তঃসীমান্ত যোগসূত্র চিহ্নিত করার জন্য বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
{{/usCountry}}তদন্তকারীদের মতে, এই সন্দেহভাজনরা পাকিস্তানি গুপ্তচরের নির্দেশে ভারতে একটি বড় জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করছিল। অভিযান চলাকালীন, পুলিশ ৮টি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করেছে। ধৃতদের সঙ্গে বিদেশি যোগের বিষয়ে আরও প্রমাণ সংগ্রহ করছে দিল্লি পুলিশ। এই আবহে ধৃতদের ডিজিটাল ডিভাইসগুলির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। ধৃত সন্দেহভাজনদের ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দিল্লিতে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে দিল্লি এনে। এই মডিউলের অর্থের উৎস এবং আন্তঃসীমান্ত যোগসূত্র চিহ্নিত করার জন্য বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
{{/usCountry}}