...
...
Next Story

Poison Capsule Case: ‘পবিত্র কর্তব্য!’ মহরমের শোভাযাত্রায় বিষাক্ত ক্যাপসুল বিলি, ধরা পড়তেই বিস্ফোরক অভিযুক্ত

Poison Capsule Case: পুলিশ জানিয়েছে, অন্যদের সাহায্যে নিজের কাজকে ‘পবিত্র কর্তব্য’-এর তকমা দিয়েছিল অভিযুক্ত ফায়াজ প্রেমজি। রে রোড এলাকার আশুরার মিছিলে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে ব্যথানাশক ও রোগ প্রতিরোধক বড়ি বলে ক্যাপসুল বিলি করছিল ফায়াজ।

Published on: Jun 28, 2026 05:52 PM IST
Advertisement

Poison Capsule Case: উৎসবের মাঝেই ভয়াবহ কাণ্ড। শুক্রবার মুম্বইয়ের মহরমের মিছিলে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিলি করার অভিযোগে ফায়াজ প্রেমজি নামে এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সূত্রে খবর, অভিযুক্তের ছক ছিল ওই মিছিলে আসা প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে বিষ খাইয়ে খুন করার। কিন্তু তিন মহিলা ভলেন্টিয়ারের উপস্থিত বুদ্ধিতে কোনওরকমে প্রাণে বাঁচে সবাই। এড়ানো গিয়েছে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। এবার এই ঘটনার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি অভিযুক্তের (সৌজন্যে টুইটার)
বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি অভিযুক্তের (সৌজন্যে টুইটার)

পুলিশ জানিয়েছে, অন্যদের সাহায্যে নিজের কাজকে ‘পবিত্র কর্তব্য’-এর তকমা দিয়েছিল অভিযুক্ত ফায়াজ প্রেমজি। রে রোড এলাকার আশুরার মিছিলে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে ব্যথানাশক ও রোগ প্রতিরোধক বড়ি বলে ক্যাপসুল বিলি করছিল ফায়াজ। জানা গিয়েছে, ওই ক্যাপসুল খেয়ে অন্তত ১১ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ক্যাপসুলগুলিতে ‘জিঙ্ক ফসফাইড’ নামে ইঁদুর মারার মারাত্মক বিষ মেশানো ছিল, যার কোনও প্রতিষেধক হয় না। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় মামলা রুজু করে এর পিছনে কোনও বড় চক্রান্ত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে বাইকুল্লা থানার পুলিশ। তবে পুলিশের মতে, এর পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র আছে। কারণ, অভিযুক্ত ফায়াজ প্রেমজি প্রায় ৩০ হাজার ক্যাপসুল ও ৫০ কিলোগ্রাম বিষের অর্ডার করেছিল।

পুলিশি জেরায় ফায়াজ প্রেমজি নাকি স্বীকার করেছে, তার উদ্দেশ্য ছিল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা। পুলিশ সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত জেরায় বলেছে, 'আমি অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম।' অভিযুক্ত প্রেমজির পুণের পাড়ায় যখন সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’ প্রতিনিধি দল পৌঁছায়, তখন স্থানীয় বাসিন্দারা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। তাঁদের দাবি, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই প্রেমজি সম্পূর্ণ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিল।

১৫ দিনের প্রস্তুতি

এই ক্যাপসুল খেয়ে যে ১১ জনের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন সলমন সাঈদ এবং আলি আব্বাস সাঈদ। সলমন জানান, তিনি এক মহিলার কাছ থেকে এই ক্যাপসুল পেয়েছিলেন, যিনি নিজের সন্তানদেরও খাইয়েছিলেন। অন্যদিকে, আলি আব্বাসের অভিযোগ, তাঁকে বলা হয়েছিল যে এটি ‘ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট।' পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনজন মহিলা স্বেচ্ছাসেবিকার উপস্থিত বুদ্ধির কারণেই বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তাঁদের একজন প্রথম লক্ষ্য করেন যে অভিযুক্ত সন্দেহজনকভাবে ক্যাপসুল বিলি করছে। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পাশাপাশি লাউডস্পিকারে ঘোষণা করে মানুষকে ওই ক্যাপসুল না খাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়। স্বেচ্ছাসেবিকারা একটি ক্যাপসুল খুলে ভেতরে গুঁড়ো জাতীয় পদার্থ দেখতে পান, যার পরেই তাঁদের সন্দেহ আরও বাড়ে।

'মানসিক ভারসাম্য হারানো'

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুণের বিমান নগরের কোনার্ক নগর টাউনশিপে বড় হয়েছে প্রেমজি। তার বাবার একটি রঙের কারখানা রয়েছে এবং তার মা ও বোন বর্তমানে ইরানে থাকেন। তদন্তে আরও জানা গেছে, গত বছরই প্রেমজি ইরান ও ইরাক সফর করেছিল এবং সেখানে মাস দুয়েক কাজও করেছিল। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সে এই ধরণের মোট ১৯টি বিদেশ সফর করেছে। পরবর্তীতে সে ভারতে ফিরে আসে এবং বাবার ব্যবসায় হাত লাগাতে শুরু করে। এই ঘটনার পর ‘এনডিটিভি’ প্রতিনিধি দল যখন প্রেমজির এলাকায় পৌঁছায়, তখন প্রতিবেশীরা দাবি করেন, স্ত্রী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই তার 'মানসিক ভারসাম্য সম্পূর্ণ বিগড়ে গিয়েছিল।' আদালত অভিযুক্তকে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১২৩-এর অধীনে বিষ প্রয়োগ করে অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে আঘাত করার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe