২০২৫ সালের মে মাসে অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানকে সমর্থন করা তুরস্ক সক্রিয় হল বংলাদেশে। ভারতের প্রতিবেশী বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই তুরস্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে সেখানে। এর আগে বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছিল। আর এবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান তাঁর ছেলে বিলালকে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। বিলাল এরদোগান বুধবার সকাল ৯টার দিকে একটি প্রাইভেট বিমানে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাঁর সাথে ছিলেন তুর্কি কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সির (টিকেএ) সভাপতি আবদুল্লাহ এরেন এবং বিখ্যাত ফুটবলার মেসুত ওজিল। জানা গেছে, এই সফরের আগে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি এবং গণমাধ্যমও এ বিষয়ে অবগত ছিল না। এদিকে অনুষ্ঠানে জামাতের ছাত্র সংগঠনের নেতা তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সহসভাপতি সাদিক কামেয় সঙ্গে ছিলেন বিলালের।

নিউজ১৮-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এরদোগানের ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নতুন মেডিক্যাল সেন্টারের উদ্বোধন করেন। তুর্কি কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সির অর্থায়নে তৈরি সেই মেডিক্যাল সেন্টার। দক্ষিণ এশিয়ায় তুর্কি কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সির ক্রমবর্ধমান কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছেন ভারতের নিরাপত্তা সংস্থা ও বিশ্লেষকরা। এর আগে বাংলাদেশের উত্তরে লালমনিরহাটে একটি কারিগরি ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রকল্পে হাত দিয়েছি তুর্কি কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সি। সেই প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল তখন।
কিছু গোয়েন্দা সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে 'টিকা' সহ বেশ কিছু তুর্কি এনজিও উগ্র ইসলামিক মতাদর্শ প্রচার করছে বাংলাদেশে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, তুরস্ক-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক তুরস্ক-পাকিস্তান-চিনের একটি বৃহত্তর সমীকরণও হতে পারে। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে 'বৃহত্তর বাংলাদেশের' মানচিত্র দেখা গিয়েছিল এক অনুষ্ঠানে। সেই অনুষ্ঠানের নেপথ্যেও তুর্কি এনজিও যোগের বিষয়টি সামনে এসেছিল। জানা যায়, তুরস্কের 'তুর্কি যুব ফেডারেশন' নামক একটি এনজিওর সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থা 'সালতানাত-ই-বাংলা' সেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। আর সসেই অনুষ্ঠানে তথাকথিত 'গ্রেটার বাংলাদেশ'-এর মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরপূর্বের বেশ কিছুটা অংশকে বাংলাদেশের অন্তর্গত দেখানো হয়েছিল।