মহারাষ্ট্রের উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে একই বিমানে সফর করলেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস এবং তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। শুক্রবার মুম্বই থেকে নাগপুরগামী একটি ইন্ডিগো বিমানে পাশাপাশি যাত্রা করেন দুই শীর্ষ নেতা। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হলেও, বিজেপি এবং শিবসেনা (ইউবিটি)—দুই পক্ষই এটিকে নিছক কাকতালীয় ঘটনা বলেই ব্যাখ্যা করেছে।

উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে ওই বিমানে ছিলেন তাঁর ছেলে তথা বিধায়ক আদিত্য ঠাকরে, রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র একাধিক শীর্ষ নেতা। বিমানে দেবেন্দ্র ফড়নবীস ও উদ্ধব ঠাকরে পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং কিছুক্ষণ কথাও বলেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ফড়নবীস রসিকতার সুরে বলেন, 'আজকের সবচেয়ে বড় খবরই হল, আমরা তিনজন একসঙ্গে দেখা করেছি।'
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সম্প্রতি শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয় জন লোকসভার সাংসদ দল ছেড়ে যাওয়ায় উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে। বিদ্রোহী সাংসদদের কেন্দ্রগুলি সফর করার পরিকল্পনা নিয়েই বিদর্ভ সফরে যাচ্ছিলেন উদ্ধব। অন্যদিকে, নিজের শহর নাগপুরে ফিরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবীস।
তবে এই সাক্ষাৎকে কোনও রাজনৈতিক তাৎপর্য দিতে নারাজ বিজেপি। দলের বিধান পরিষদ সদস্য প্রসাদ লাড বলেন, দেবেন্দ্র ফড়নবীস নিয়মিত মুম্বই-নাগপুরের মধ্যে বিমানে যাতায়াত করেন। তাই এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বরং উদ্ধব ঠাকরের বাণিজ্যিক বিমানে সফর করাই তাঁর কাছে বেশি বিস্ময়ের বিষয়। তাঁর কথায়, 'রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী মানেই শত্রু নয়। আমাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।' তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও উদ্ধব ঠাকরে ও তাঁর পরিবার একসময় তাঁর মেয়ের বিয়েতেও উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, শিবসেনা (ইউবিটি)-র নেত্রী সুষমা আন্ধারে-ও এই ঘটনাকে কাকতালীয় বলেই মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, জাতীয় স্তরে সরকারি ব্যয় কমানো ও ব্যক্তিগত বিমানের বদলে বাণিজ্যিক উড়ান ব্যবহারের যে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটেই এই সফরকে দেখা উচিত। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, শিবসেনা (ইউবিটি)-র নেত্রী সুষমা আন্ধারে-ও এই ঘটনাকে কাকতালীয় বলেই মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, জাতীয় স্তরে সরকারি ব্যয় কমানো ও ব্যক্তিগত বিমানের বদলে বাণিজ্যিক উড়ান ব্যবহারের যে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটেই এই সফরকে দেখা উচিত। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।
{{/usCountry}}এদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের দলত্যাগের পর এই প্রথম বিদর্ভ সফরে পৌঁছতেই নাগপুর বিমানবন্দরে উদ্ধব ঠাকরেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দলের কর্মী-সমর্থকেরা। ঢাক-ঢোল, স্লোগান এবং বালাসাহেব ঠাকরে ও উদ্ধব ঠাকরের ছবি-সম্বলিত পোস্টারে বিমানবন্দর চত্বর মুখর হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিদ্রোহের পর সংগঠনের শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এই সফর উদ্ধবের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।