নিজের যুদ্ধ ছেড়ে এবার পশ্চিম এশিয়ায় নজর দিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমি জেলেনস্কি। ইরানি ড্রোন ঠেকাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং সৌদি আরবে বিশেষজ্ঞ দল পাঠাবে ইউক্রেন। ইরানের শহিদ ড্রোনের মারে নাজেহাল আমেরিকা। এই ড্রোনের জবাব খুঁজে পাচ্ছে না আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের থেকে নাকি আমেরিকা সাহায্য চেয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ জুড়ে ইরান হামলা চালিয়েছে। বাহারিন থেকে শুরু করে দুবাই, সৌদি, কাতার, কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে আছড়ে পড়েছে ইরানি মিসাইল। এই আবহে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানি হামলায় আমেরিকার একাধিক সেনা জওয়ান নিহত হয়েছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা বি২ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছে। ইরানের বহু রণতরী তারা ধ্বংস করেছে বলে জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইআরজিসি'র সদর দফতর ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে এতকিছুর মাঝেও ইরানের হামলা থামছে না।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন এবং ইজরায়েলি হামলায় খামেনেইর মৃত্যু ঘটেছিল। এই আবহে বিপ্লবের পরে এই প্রথম সংকটের মুখে পড়েছিল ইরানের ইসলামি শাসন ব্যবস্থা। আর খামেনেইর মৃত্যুর পর থেকে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পরপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। দুবাইয়ের বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিখ্যাত হোটেলে আছড়ে পড়েছে ইরানি মিসাইল এবং ড্রোন। দুবাইয়ের বন্দরেও হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে একাধিক জাহাজে ইরানি ড্রোন এবং মিসাইল আঘাত হেনেছে। ইরান যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী কার্যত স্তব্ধ। এর জেরে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ থেকে নিজেদের দূতাবাস খালি করিয়েছে আমেরিকা। সৌদিতে মার্কিন দূতাবাসে ইরানি মিসাইল আছড়ে পড়েছিল এর আগে। আরও একাধিক দেশে মার্কিন দূতাবাসকে নিশানা করেছে ইরান। এই আবহে ইরানের শহিদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের কাছে নাকি সাহায্য চেয়েছিল আমেরিকা। আর জেলেনস্কি এবার জানালেন, ইরানি ড্রোনকে জবাব দিতে পশ্চিম এশিয়ার তিন দেশে বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে ইউক্রেন। এদিকে আমেরিকাকে সাহায্য করা সব দেশকেই নিশানা করছে ইরান। এমনকী ন্যাটোভুক্ত তুরস্ককেও ছাড়ছে না ইরান। তাদের লক্ষ্য করেও মিসাইল এবং ড্রোন ছুড়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেন ইরানের ড্রোন ঠেকাতে বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে কি ইউরোপের দিকে টেনে আনছে এই যুদ্ধকে? এই প্রশ্নও উঠতে পারে জেলেনস্কির ঘোষণায়।