লাহোর এবং করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুসেটগুলিতে পরিষেবা এখনও স্থগিত রাখা হবে বলে জানিয়ে দিল পাকিস্তানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। এর আগে করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলার চেষ্টা হয়েছিল। সেই সময় নিরাপত্তারক্ষীরা পালটা গুলি চালিয়ে অনেক বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছিল। এমনিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে পাকিস্তান-মার্কিন সম্পর্ক মধুর হয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধের আবহে পাকিস্তানে আমেরিকা-বিরোধী মনোভাব বেড়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পরে গোটা পাকিস্তান জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছিল আমেরিকার বিরুদ্ধে। ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের ব্যাপক সংঘর্ষে পাকিস্তানে প্রায় ২০ জনের মত নিহত হয়েছিলেন। এর মধ্যে করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ১০ জনের। এদিকে পাক অধিকৃত লাদাখে গিলগিট বালটিস্তানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন নিহত হন। লাহোরেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিকে ঘিরে ধরেছিল ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীরা।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে থাকা আমেরিকান নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলে নির্দেশিকা জারি করে মার্কিন দূতাবাস। এরই সঙ্গে আমেরিকার দূতাবাসে পাকিস্তানিদের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করা হয় গত ১ মার্চ থেকেই। পাকিস্তান সরকার মার্কিন দূতাবাস এবং কনস্যুলেটে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। তবে কনস্যুলেটের পরিষেবা চালু না করার সিদ্ধান্তই নিয়েছে আমেরিকা।
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ শতাধিক মানুষ করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে প্রতিবাদ দেখান। এই প্রতিবাদ হিংসাত্মক আকার ধারণ করে। একটা সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এরপর প্রতিবাদীদের একটা অংশ লাঠি নিয়ে চড়াও হয় কনস্যুলেট ভবনের ওপরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এরপর বাধ্য হয়ে কনস্যুলেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা গুলি চালাতে বাধ্য হন। ঘটনায় একাধিক বিক্ষোভকারী জখম হন। অন্তত ১০ জন প্রাণ হারান। মৃতদের সবাই গুলিবিদ্ধ হন।