...
...
Next Story

US Senator on India buying Russian Oil: ভারতকে রাশিয়ান তেল কিনতে দেওয়া আমেরিকার জন্য ভালো, দাবি মার্কিন সেনেটরের

মার্কিন সেনেটরের বক্তব্য, ইরান যুদ্ধের জন্য বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে। তবে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে আমেরিকায় তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।

Published on: Mar 11, 2026, 11:01:09 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

ভারতের রাশিয়ান তেল কেনার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি আমেরিকার জন্য ভালো, এমনই দাবি করলেন মার্কিন সেনেটর রজার মার্শাল। রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষে থাকা এই সেনেটরের এখন বক্তব্য, ইরান যুদ্ধের জন্য বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে। তবে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে আমেরিকায় তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। এই আবহে তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, ভারতের রাশিয়ার তেল কেনার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার ফলে আমেরিকার জন্য ভালো হবে।'

মার্কিন সেনেটরের বক্তব্য, রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে আমেরিকায় তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। (AP)
মার্কিন সেনেটরের বক্তব্য, রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে আমেরিকায় তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। (AP)

প্রসঙ্গত, ইরান যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে আইআরজিসি। তাই হরমুজ প্রণালীতে শ'য়ে শ'য়ে ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম রকেট গতিতে উর্ধ্বমুখী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে ভারতকে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার 'ছাড়' দেয় আমেরিকা। ভারতকে রাশিয়ার তেল কিনতে বলে আমেরিকা ইতিমধ্যেই একটি 'নির্দেশিকা' জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই যে রাশিয়ান তেল সাগরে রয়েছে, তা কিনতে পারে ভারতীয় শোধনাগারগুলি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে ভারতের পণ্যের ওপর থেকে শাস্তিমূলক ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ান তেল কেনার জন্যে বিগত বশ কয়েক মাস ধরে এই শুল্ক ধার্য করা ছিল ভারতের ওপর। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন যে নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটন একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। সেই চুক্তির ফলে ভারতের পণ্যের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক কমায় আমেরিকা। তবে সেই সময় ট্রাম্প 'হুঁশিয়ারি' দিয়েছিলেন, ভারত যদি আবার রাশিয়ার তেল কেনে, তাহলে ভারতের ওপর ফের শুল্ক চাপানো হবে। পরে বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত 'ফ্যাক্টশিট'-এ হোয়াইট হাউজ প্রথমে দাবি করে, ভারত রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করবে। এবং সেই ফ্যাক্টশিট জারির একদিনের মাথায় তা 'সংশোধন' করা হয়। এবং বলা হয়, ভারত রুশ তেল কেনা কমানোর চেষ্টা করবে।

উল্লেখ্য, ভারতীয় শোধনাগারগুলি প্রতিদিন প্রায় ৫.৬ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়া করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতের অপরিশোধিত চাহিদার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মেটাতে সহায়তা করতে প্রস্তুত রাশিয়া। রিপোর্ট অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ভারতে অপরিশোধিত রাশিয়ান তেল আমদানি কমে দৈনিক ১.১ মিলিয়ন ব্যারেল হয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বরের পরে যা সর্বনিম্ন। সূত্রটি জানিয়েছে যে ফেব্রুয়ারিতে অবশ্য রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানির হার ৩০ শতাংশে ফিরে এসেছে। দুটি শোধনাগারের সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় রিফাইনারগুলি রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তবে রাশিয়ার তেল কেনার হার বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের নির্দেশনার উপর নির্ভর করবে। কারণ ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ভারত যদি ফের রাশিয়ার তেল কেনা বাড়ায়, তাহলে তিনি ফের শুল্ক চাপাবেন ভারতের ওপরে। যদিও বা ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন লাগার আশঙ্কা দেখা দিতেই নিজের আগের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাঁড়ালেন ট্রাম্প। এদিকে আগেই রাশিয়া জানিয়েছে, তারা ভারতে তেল পাঠাতে প্রস্তুত। ভারতীয় জলসীমায় অ-রাশিয়ান জাহাজে প্রায় ৯.৫ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল রয়েছে এবং কয়েক দিনেই তা ভারতে পৌঁছাতে পারে। এই আবহে ট্রাম্পের 'অনুমতি' না থাকলেও ভারত সরকার নিজ স্বার্থে রাশিয়ান তেল কেনার দিকে ঝুঁকত বলেই মত বিশ্লেষকদের।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe