রবিবার কিংবদন্তী সঙ্গীত শিল্পী আশা ভোঁসলে ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন। তাঁর এই প্রয়ানে সঙ্গীত জগতে জুড়ে শোকের ছায়া। তাঁর মৃত্যুতে গভীর ভাবে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লেখেন, ‘আমি মর্মাহত’।

আরও পড়ুন: কখনও বেঁধেছেন নতুন সুর, আবার কখনও কেটেছে তাল, কেমন ছিল আশা ভোঁসলের সুরেলা জীবন সফর?
রবিবার দুপুরে সঙ্গীত শিল্পীর প্রয়ানের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে প্রয়াত গায়িকার সঙ্গে একাধিক ছবি পোস্ট করে শোক প্রকাশ করে লেখেন, ‘ভারতের অন্যতম সেরা ও বহুমুখী কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলেজির প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। কয়েক দশকব্যাপী তাঁর অসাধারণ সঙ্গীতযাত্রা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্বজুড়ে অগণিত মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে। তাঁর হৃদয়স্পর্শী সুর হোক বা প্রাণবন্ত কম্পোজিশন, তাঁর কণ্ঠে ছিল এক চিরন্তন ঔজ্জ্বল্য। তাঁর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো আমি চিরকাল মনে রাখব।’
এরপর প্রধানমন্ত্রী গায়িকার পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘তাঁর পরিবার, অনুরাগী এবং সঙ্গীতপ্রেমীদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবেন এবং তাঁর গান মানুষের জীবনে চিরকাল অনুরণিত হবে।’
আরও পড়ুন: শ্যুটিং ফ্লোরে মদ-সহ নেশা দ্রব্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিলেন প্রযোজক রানা সরকার?
{{/usCountry}}আরও পড়ুন: শ্যুটিং ফ্লোরে মদ-সহ নেশা দ্রব্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিলেন প্রযোজক রানা সরকার?
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, এদিন সকালেই প্রধানমন্ত্রী গায়িকার স্বাস্থ্যের অবনতির কথা শুনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তারপরই রবিবার বেলায় জানা যায় তিনি গায়িকা অমৃতলোকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে আশা ভোঁসলেকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত জটিলতা, হৃদযন্ত্রের সমস্যা এবং ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর অবস্থার আর উন্নতি হয়নি। রবিবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে।
সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে আশা ভোঁসলে একাধিক ভাষায় হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন। হিন্দি সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে আঞ্চলিক বহু ভাষাতেই গান গেয়েছেন। তাঁর বাংলা গানের সম্ভারও ব্যাপক। তাঁর প্রাপ্ত পুরস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এবং ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে তিনি উদীয়মান গায়কদের উৎসাহিত করার জন্য প্রতিযোগিতামূলক পুরস্কার থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।