Trains Chain Pulling Data: রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে, গত মাসে অবৈধভাবে ট্রেনের অ্যালার্ম চেন টানার (এসিপি) কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সম্পূর্ণ কোনও জরুরি পরিস্থিতি ছাড়াই, অত্যন্ত তুচ্ছ এবং অদ্ভুত সব ব্যক্তিগত কারণে চেন টানার ফলে মোট ৮৬টি ট্রেনকে থেমে থাকতে হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই খামখেয়ালিপনার শিকার সবচেয়ে বেশি হয়েছে আসানসোল ও হাওড়া ডিভিশন। এর পরেই রয়েছে মালদা ও শিয়ালদা ডিভিশন।
চেন টানার বিভিন্ন কারণ

রেলের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনটি যখন নিজেদের বাড়ির কাছ দিয়ে যাচ্ছে, তখন নেমে বাড়ি যাওয়ার জন্য আসানসোল ডিভিশনে চারজন এবং মালদা ডিভিশনে চার জন যাত্রী ট্রেনের জরুরি চেন টেনে দেন। অন্যদিকে, গভীর ঘুমের কারণেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। আসানসোল ও হাওড়ায় যথাক্রমে তিনজন এবং দু'জন যাত্রী দেরিতে ঘুম থেকে উঠে দেখেন যে তাঁদের গন্তব্য স্টেশন পেরিয়ে যাচ্ছে, আর তখনই তড়িঘড়ি চেন টেনে বসেন। তাছাড়াও পকেট থেকে মোবাইল পড়ে যাওয়ার মতো কারণেও চেন টেনেছেন বলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, এই ছোটো-ছোটো কাজগুলো পুরো রেলওয়ে নেটওয়ার্ক জুড়ে ট্রেনের সময়ের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে মোট ৮৬টি ট্রেন দীর্ঘ সময় আটকে থেকেছে। যার গড় সময় আসানসোলে ১৩ মিনিট, হাওড়ায় ১৪ মিনিট ছিল। মালদা ও শিয়ালদা ডিভিশনের কয়েকটি সেকশনে সর্বোচ্চ ১৭ মিনিট পর্যন্ত ট্রেন দাঁড়িয়েছিল।
কোন শাখায় কতগুলি ট্রেন আটকে পড়েছিল?
{{/usCountry}}কোন শাখায় কতগুলি ট্রেন আটকে পড়েছিল?
{{/usCountry}}১) আসানসোল ডিভিশনের সীতারামপুর জংশন থেকে ঝাঝা শাখা: ৩২টি ট্রেন।
২) সীতারামপুর জংশন থেকে প্রধানখুন্টা শাখা: সাতটি ট্রেন।
৩) সীতারামপুর জংশন থেকে খানা জংশন শাখা: তিনটি ট্রেন।
৪) হাওড়া ডিভিশনের হাওড়া জংশন থেকে খানা জংশন শাখা: ২২টি ট্রেন।
৫) খানা জংশন থেকে গুমানি শাখা: আটটি ট্রেন।
৬) মালদা ডিভিশনে বারহারয়া জংশন থেকে কিউল জংশন শাখা: দুটি ট্রেন।
৭) ভাগলপুর জংশন থেকে কিউল জংশন: চারটি ট্রেন।
৮) মালদা টাউন থেকে কিউল জংশন শাখা: তিনটি ট্রেন।
৯) শিয়ালদা ডিভিশনে শিয়ালদা থেকে ক্যালকাটা কর্ড লিঙ্ক কেবিন সেকশন: পাঁটটি ট্রেন।
রেলের কড়া পদক্ষেপ, মে মাসেই গ্রেফতার ৫৮
এই ঘটনা রুখতে মে'তে একটি অভিযান চালায় পূর্ব রেল। যার ফলে ৭২টি ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত করা হয় এবং ৫৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে আসানসোল রেলওয়ে আইনের অধীনে ৩৭টি মামলা রুজু করে ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২২টি মামলা রুজু করে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে হাওড়ায়। মালদা ন'টি নির্দিষ্ট মামলা রুজু করে আটজনকে গ্রেফতার করেছে রেল। এবং শিয়ালদহ চারটি মামলা রুজু করে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।