...
...
Next Story

Asha Bhosle Health Condition: আশা ভোঁসলে ভরতি হাসপাতালে, হৃদপিণ্ড ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, রাখা হল ICU-তে

Asha Bhosle Health Condition: কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলেকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। ভারতীয় সঙ্গীত জগতের ইতিহাসে আশা ভোঁসলে কেবল একটি নাম নয়, বরং একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি তাঁর জাদুকরী কণ্ঠ দিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছেন।

Published on: Apr 11, 2026, 21:10:28 IST
Advertisement

Asha Bhosle Health Condition: আশা ভোঁসলেকে হাসপাতালে ভরতি করা হল। সংবাদসংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছে যে কিংবদন্তি গায়িকাকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। তবে তাঁরা শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যম লাইভ হিন্দুস্তানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হৃদপিণ্ড সংক্রান্ত সমস্যার কারণে গায়িকাকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। বর্তমানে এমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিস ইউনিটে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে গায়িকার শারীরিক অবস্থা বিশেষ ভালো ছিল না। তারইমধ্যে হৃদপিণ্ড ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যাও হচ্ছিল। তার জেরে তাঁকে আইসিইউতে ভরতি করা হয়েছে শনিবার। তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আশা ভোঁসলেকে হাসপাতালে ভরতি করা হল। (ফাইল ছবি)
আশা ভোঁসলেকে হাসপাতালে ভরতি করা হল। (ফাইল ছবি)

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের ইতিহাসে আশা ভোঁসলে কেবল একটি নাম নয়, বরং একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি তাঁর জাদুকরী কণ্ঠ দিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছেন। বৈচিত্র্যময় গায়কী, অদম্য প্রাণশক্তি এবং যে কোনও ধরনের গানকে আপন করে নেওয়ার অসামান্য দক্ষতা তাঁকে বিশ্বসঙ্গীতের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় বসিয়েছে।

প্রাথমিক জীবন ও সংগ্রামের দিনগুলি

আশা ভোঁসলে ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলি জেলায় এক সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন একজন প্রখ্যাত ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী এবং নাট্যব্যক্তিত্ব। বাবার অকাল প্রয়াণের পর পরিবারের হাল ধরতে দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তিনিও সঙ্গীত জগতে পা রাখেন। ১৯৪৩ সালে 'মাঝা বাল' নামক মারাঠি চলচ্চিত্রে প্রথম গান করেন তিনি। হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৮ সালে 'চুনরিয়া' ছবির মাধ্যমে। তবে শুরুর দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না; তৎকালীন সময়ের প্রতিষ্ঠিত গায়িকাদের ভিড়ে নিজের জায়গা করে নিতে তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছিল।

আশা ভোঁসলের সবথেকে বড় শক্তি হল তাঁর কণ্ঠের বিস্ময়কর বহুমুখিতা। তিনি কেবল ধ্রুপদী সঙ্গীত বা ভজনে সীমাবদ্ধ থাকেননি। গজল, পপ, ক্যাবারে, লোকসঙ্গীত থেকে শুরু করে রবীন্দ্রসঙ্গীত- সবক্ষেত্রেই তিনি সমান পারদর্শী।

১) ও. পি. নায়ারের সঙ্গে জুটি: ১৯৫০-এর দশকে সঙ্গীত পরিচালক ও. পি. নায়ারের অধীনে তাঁর গানগুলো এক নতুন ধারার সূচনা করে। 'নয়া দৌড়', 'হাওড়া ব্রিজ' বা 'কাশ্মীর কি কলি'র মতো সিনেমাগুলোতে তাঁর চনমনে কণ্ঠ তরুণ প্রজন্মকে মাতিয়ে তোলে।

আরও পড়ুন: Chirosokha-Shinjinee: 'ছাড়তে কষ্ট হয়…', বিচ্ছেদ যন্ত্রণা ঘিরে ধরেছে শিঞ্জিনীকে, কেন মন খারাপ বর্ষার?

২) আর. ডি. বর্মণ যুগ: সঙ্গীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের (পঞ্চম দা) সাথে তাঁর জুটি ছিল যুগান্তকারী। 'দম মারো দম', 'চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে' বা 'পিয়া তু অব তো আজা'-র মতো গানগুলো তাঁকে ভারতের 'পপ কুইন' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

৩) গজল ও ধ্রুপদী ছোঁয়া: একদিকে যেমন তিনি পশ্চিমা ধাঁচের গান গেয়েছেন, অন্যদিকে 'উমরাও জান' চলচ্চিত্রে তাঁর গাওয়া গজলগুলো (যেমন: 'দিল চিজ কেয়া হ্যায়') তাঁর কণ্ঠের গভীরতা প্রমাণ করে।

আরও পড়ুন: কাজের ফাঁকেই বউকে নিয়ে শ্রীক্ষেত্র ভ্রমণ ঋত্বিকের, রিকশা করে ঘুরলেন দুজনে

বাংলা গানের অবদান

বাঙালি শ্রোতাদের কাছে আশা ভোঁসলে অত্যন্ত প্রিয়। কিশোর কুমার এবং আর. ডি. বর্মণের সাথে তাঁর অসংখ্য বাংলা ডুয়েট ও একক গান আজও বাঙালির হৃদয়ে গেঁথে আছে। 'যেতে যেতে পথে পূর্ণিমা রাতে', 'আকাশে আজ রঙধনুর হাসি' বা 'ও পাখি ওরে'-র মতো গানগুলো বাংলা আধুনিক গানের সম্পদ। তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণ এবং আবেগের সঠিক বহিঃপ্রকাশ তাঁকে অন্য ভাষাভাষী হয়েও বাঙালির খুব আপন করে তুলেছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Ayan Das

অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe