Asha Bhosle Health Condition: আশা ভোঁসলেকে হাসপাতালে ভরতি করা হল। সংবাদসংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছে যে কিংবদন্তি গায়িকাকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। তবে তাঁরা শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যম লাইভ হিন্দুস্তানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হৃদপিণ্ড সংক্রান্ত সমস্যার কারণে গায়িকাকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। বর্তমানে এমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিস ইউনিটে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে গায়িকার শারীরিক অবস্থা বিশেষ ভালো ছিল না। তারইমধ্যে হৃদপিণ্ড ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যাও হচ্ছিল। তার জেরে তাঁকে আইসিইউতে ভরতি করা হয়েছে শনিবার। তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের ইতিহাসে আশা ভোঁসলে কেবল একটি নাম নয়, বরং একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি তাঁর জাদুকরী কণ্ঠ দিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছেন। বৈচিত্র্যময় গায়কী, অদম্য প্রাণশক্তি এবং যে কোনও ধরনের গানকে আপন করে নেওয়ার অসামান্য দক্ষতা তাঁকে বিশ্বসঙ্গীতের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় বসিয়েছে।
প্রাথমিক জীবন ও সংগ্রামের দিনগুলি
আশা ভোঁসলে ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলি জেলায় এক সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন একজন প্রখ্যাত ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী এবং নাট্যব্যক্তিত্ব। বাবার অকাল প্রয়াণের পর পরিবারের হাল ধরতে দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তিনিও সঙ্গীত জগতে পা রাখেন। ১৯৪৩ সালে 'মাঝা বাল' নামক মারাঠি চলচ্চিত্রে প্রথম গান করেন তিনি। হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৮ সালে 'চুনরিয়া' ছবির মাধ্যমে। তবে শুরুর দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না; তৎকালীন সময়ের প্রতিষ্ঠিত গায়িকাদের ভিড়ে নিজের জায়গা করে নিতে তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছিল।
আরও পড়ুন: শ্যুটে পুড়ে যায় পিঠ! সেই যন্ত্রণা নিয়েই বিশেষ কায়দায় পোশাক পরে পরদিন হাজির সেটে
বহুমুখী প্রতিভা ও সঙ্গীতশৈলী
{{/usCountry}}আরও পড়ুন: শ্যুটে পুড়ে যায় পিঠ! সেই যন্ত্রণা নিয়েই বিশেষ কায়দায় পোশাক পরে পরদিন হাজির সেটে
বহুমুখী প্রতিভা ও সঙ্গীতশৈলী
{{/usCountry}}আশা ভোঁসলের সবথেকে বড় শক্তি হল তাঁর কণ্ঠের বিস্ময়কর বহুমুখিতা। তিনি কেবল ধ্রুপদী সঙ্গীত বা ভজনে সীমাবদ্ধ থাকেননি। গজল, পপ, ক্যাবারে, লোকসঙ্গীত থেকে শুরু করে রবীন্দ্রসঙ্গীত- সবক্ষেত্রেই তিনি সমান পারদর্শী।
১) ও. পি. নায়ারের সঙ্গে জুটি: ১৯৫০-এর দশকে সঙ্গীত পরিচালক ও. পি. নায়ারের অধীনে তাঁর গানগুলো এক নতুন ধারার সূচনা করে। 'নয়া দৌড়', 'হাওড়া ব্রিজ' বা 'কাশ্মীর কি কলি'র মতো সিনেমাগুলোতে তাঁর চনমনে কণ্ঠ তরুণ প্রজন্মকে মাতিয়ে তোলে।
২) আর. ডি. বর্মণ যুগ: সঙ্গীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের (পঞ্চম দা) সাথে তাঁর জুটি ছিল যুগান্তকারী। 'দম মারো দম', 'চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে' বা 'পিয়া তু অব তো আজা'-র মতো গানগুলো তাঁকে ভারতের 'পপ কুইন' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
৩) গজল ও ধ্রুপদী ছোঁয়া: একদিকে যেমন তিনি পশ্চিমা ধাঁচের গান গেয়েছেন, অন্যদিকে 'উমরাও জান' চলচ্চিত্রে তাঁর গাওয়া গজলগুলো (যেমন: 'দিল চিজ কেয়া হ্যায়') তাঁর কণ্ঠের গভীরতা প্রমাণ করে।
আরও পড়ুন: কাজের ফাঁকেই বউকে নিয়ে শ্রীক্ষেত্র ভ্রমণ ঋত্বিকের, রিকশা করে ঘুরলেন দুজনে
বাংলা গানের অবদান
বাঙালি শ্রোতাদের কাছে আশা ভোঁসলে অত্যন্ত প্রিয়। কিশোর কুমার এবং আর. ডি. বর্মণের সাথে তাঁর অসংখ্য বাংলা ডুয়েট ও একক গান আজও বাঙালির হৃদয়ে গেঁথে আছে। 'যেতে যেতে পথে পূর্ণিমা রাতে', 'আকাশে আজ রঙধনুর হাসি' বা 'ও পাখি ওরে'-র মতো গানগুলো বাংলা আধুনিক গানের সম্পদ। তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণ এবং আবেগের সঠিক বহিঃপ্রকাশ তাঁকে অন্য ভাষাভাষী হয়েও বাঙালির খুব আপন করে তুলেছে।