এতদিন যেন মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হচ্ছিল। মহম্মদ ইউনুস সরতেই ফোঁস করে উঠল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। নির্বাচনের পরে বিএনপি সরকার গঠন করতেই ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বাংলাদেশের সিনিয়র পুরুষ ক্রিকেট দলের সহকারী কোচ মহম্মদ সালউদ্দিন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে সদ্য প্রাক্তন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে ( সরাসরি মিথ্যেবাদী বলেন। তিনি দাবি করেন, ক্রিকেটার বা তাঁদের মতামতই জানতে চাওয়া হয়নি। কোনওরকম বার্তা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন বাংলাদেশের সহকারী কোচ।
প্রাক্তন উপদেষ্টা মিথ্যেবাদী, বিস্ফোরক সহকারী কোচ

তিনি বলেন, 'উনি (আসিফ নজরুল) একেবারে মানে এমন মিথ্যা কথা বলছেন, আমার বিশ্বাস (হচ্ছে না)। আমি তো নিজেও টিচার মানুষ। টিচাররা তো মিথ্যে কথা একটু কম বলেন। উনি খাঁড়ার উপরে এরকম মিথ্যে কথা বলবেন, আমি এটা আসলে ভাবতেও পারছি না। আমি ছেলেদের সামনে কীভাবে মুখ দেখাব? উনি এভাবে ইউ-টার্ন নেবেন (?) উনি একজন শিক্ষক মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক উনি। আমার দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন মানুষ উনি। উনি এভাবে মিথ্যে কথা বলবেন, সেটা আমরা মানতে পারছি না। এটা আমার বলার মতো। উনি কী বলে আসলেন, আর কীভাবে ইউ-টার্ন নিলেন।'
আর যে আসিফের কথা বলেছেন বাংলাদেশের সহকারী কোচ, তিনি প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিলেন যে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনুস সরকার। কিন্তু তারপর সেই দায়টা ক্রিকেটার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উপরে চাপিয়ে দিয়েছিলেন। তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই নজরুল সাফাই দিয়েছিলেন যে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু ক্রিকেটার ও বোর্ডও সমর্থন করেছিল। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভোটের ময়দানে ফায়দা লুটে নেওয়ার আশায় প্রথমে নিজে যাবতীয় ক্রেডিট নিচ্ছিলেন ইউনুসের উপদেষ্টা। কিন্তু পরে বিরূপ মনোভাবের জেরে কিছুটা সুর নরম করে নিয়েছিলেন।
‘বাংলাদেশের ২ ক্রিকেটার কোমায় চলে গিয়েছিল’
শেষপর্যন্ত যাই হোক না কেন, দিনের শেষে বাংলাদেশ খেলতে পারেনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তা নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘একটা ছেলে যখন বিশ্বকাপ খেলবে, সে তখন ২৭ বছরের একটা স্বপ্ন নিয়ে আসছে। দিনটা আপনি এক সেকেন্ডে নষ্ট করে দিলেন। ঠিক আছে, দেশের সিদ্ধান্ত। দুটি দেশের (সম্পর্কের) কারণে এরকম হয়েছে, সেটা ওরা স্যাক্রিফাইস করবে। কিন্তু ক্ষতির কথা যদি বলেন, শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা বলব। একটা ছেলের স্বপ্ন শেষ করে দিলেন। আমার দুটো প্লেয়ার কোমায় চলে গিয়েছিল। পাঁচদিন ধরে কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল। তাদের যে ফের মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি, সেটাই আমার কোচিং জীবনের সবথেকে বড় সাকসেস।’
ইউনুসরা ক্রিকেটারদের কথায় প্রাধান্য দেয়নি, বিস্ফোরক সহকারী কোচ
{{/usCountry}}শেষপর্যন্ত যাই হোক না কেন, দিনের শেষে বাংলাদেশ খেলতে পারেনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তা নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘একটা ছেলে যখন বিশ্বকাপ খেলবে, সে তখন ২৭ বছরের একটা স্বপ্ন নিয়ে আসছে। দিনটা আপনি এক সেকেন্ডে নষ্ট করে দিলেন। ঠিক আছে, দেশের সিদ্ধান্ত। দুটি দেশের (সম্পর্কের) কারণে এরকম হয়েছে, সেটা ওরা স্যাক্রিফাইস করবে। কিন্তু ক্ষতির কথা যদি বলেন, শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা বলব। একটা ছেলের স্বপ্ন শেষ করে দিলেন। আমার দুটো প্লেয়ার কোমায় চলে গিয়েছিল। পাঁচদিন ধরে কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল। তাদের যে ফের মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি, সেটাই আমার কোচিং জীবনের সবথেকে বড় সাকসেস।’
ইউনুসরা ক্রিকেটারদের কথায় প্রাধান্য দেয়নি, বিস্ফোরক সহকারী কোচ
{{/usCountry}}তিনি দাবি করেন, দেশের স্বার্থে তিনি ও তাঁর ছেলেরা অনেক কিছু বিসর্জন করতে রাজি আছেন। কিন্তু সান্ত্বনা দিয়ে এটা বলা হয়নি যে এই এই কারণে তাঁরা বিশ্বকাপে খেলতে পারছেন না। যদি সেটা বলা হত বা কমিউনিকেশন করা হত, তাহলে অনেক কিছু মানা যায় বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের সহকারী কোচ। অর্থাৎ ইউনুস সরকার যে ক্রিকেটারদের কোনও কথাই শোনেনি, নিজেদের মতামত চাপিয়ে দিয়েছেন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সালাউদ্দিন।