কয়েক সপ্তাহ আগেও শাসক বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল ইরান। সেই বিক্ষোভে কয়েক হাজার আন্দোলনকারীর মৃত্যু ঘটেছিল। এই আবহে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা বন্ধ করতে বলে ইরানে সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল আমেরিকা। পরে সেই আন্দোলন এবং হিংসা কমে। তবে ফের নতুন করে খামেনেই বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছ ইরানে। ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন।

এই প্রতিবাদের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা গিয়েছে, তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে কয়েকশ শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ ভাবে মিছিল করেছেন। অনেকের হাতে জাতীয় পতাকা ছিল। তারা স্বৈরশাসনের অবসানের দাবি এবং খামেনেইর মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দিতে থাকেন। এদিকে সেখানেই সরকারপন্থীদেরও একটি সমাবেশ হচ্ছিল। এই আবহে দুই পক্ষের মধ্যে পরবর্তী সংঘর্ষ বাঁধে। এদিকে তেহরানের শহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অবস্থান বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শাসকের বিরুদ্ধে। ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদেও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন। এছাড়া ইরানের আরও বহু স্থানে পড়ুয়াদের সরকার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে।
এদিকে রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বিক্ষোভকারীদের দমন করতে রাস্তায় নামে। এর জেরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ধস্তাধস্তি হয়। এর জেরে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের অনেকেই আহত হন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার একটি ভিডিয়োতে দেখা গেছে, শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারীরা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইকে 'খুনি নেতা' হিসেবে আখ্যা দিয়ে স্লোগান তোলেন পড়ুয়ারা। এদিকে ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহের নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভিকে নতুন রাজা হওয়ার আহ্বান জানান সেই পড়ুয়ারা। মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গা দাবি করেছে, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আবদানানে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়। এরপরে বিক্ষোভকারীরা 'খামেনেইর মৃত্যু' এবং 'স্বৈরশাসকের মৃত্যু' নিয়ে স্লোগান দেন।
এর আগে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনীতির অবনতির ইস্যুতে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটেছিল ২০২৫ সালের শেষদিকে। রাজধানী তেহরানসহ ইরান জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চলে। ইরানি বাহিনীকে বহু জায়গায় তাড়া করে সাধারণ মানুষ। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর যে জনরোষ ইরানের পথেঘাটে দেখা গিয়েছিল, তারপর থেকে সবচেয়ে বড় আকারের আন্দোলন ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারির এই আন্দোলন। তবে তেহরান বলে, এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে আমেরিকা। এই আবহে অনেক জায়গায় নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পহলভির নামে স্লোগানও দিতে শোনা গিয়েছিল। এর আগে ১৯৭৯ ইসলামি বিপ্লবের সময় তৎকালীন রাজা তথা রেজার বাবা ইরান ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবারও কয়েকটি জায়গায় রেজাকে ফেরানোর দাবি জানাচ্ছেন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা।
{{/usCountry}}এর আগে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনীতির অবনতির ইস্যুতে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটেছিল ২০২৫ সালের শেষদিকে। রাজধানী তেহরানসহ ইরান জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চলে। ইরানি বাহিনীকে বহু জায়গায় তাড়া করে সাধারণ মানুষ। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর যে জনরোষ ইরানের পথেঘাটে দেখা গিয়েছিল, তারপর থেকে সবচেয়ে বড় আকারের আন্দোলন ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারির এই আন্দোলন। তবে তেহরান বলে, এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে আমেরিকা। এই আবহে অনেক জায়গায় নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পহলভির নামে স্লোগানও দিতে শোনা গিয়েছিল। এর আগে ১৯৭৯ ইসলামি বিপ্লবের সময় তৎকালীন রাজা তথা রেজার বাবা ইরান ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবারও কয়েকটি জায়গায় রেজাকে ফেরানোর দাবি জানাচ্ছেন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা।
{{/usCountry}}