রবিবার পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর জেলার পাকিস্তান সীমান্তের কাছে একটি নিরাপত্তা চৌকি থেকে দুই পুলিশ সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই সেনাই মারা যান। ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ফরেনসিক টিম। সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে দোরাংলা থানার অন্তর্গত আদিয়ান গ্রামে। জানা গিয়েছে, মৃতরা হলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই) অশোক কুমার এবং হেড কনস্টেবল গুরনাম সিং। ভারত-পাক সীমান্তের কাছে একটি চেকপোস্টে এই দুই পুলিশ জওয়ান মোতায়েন ছিলেন। সীমান্ত নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে 'সেকেন্ড লাইন অফ ডিফেন্স' হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চেকপোস্টের কাছে হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। অন্য নিরাপত্তা কর্মী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ওই দুই পুলিশ কর্মীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁদের গুরুদাসপুরের সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সময় কোনও প্রত্যক্ষদর্শী উপস্থিত না থাকায় মামলাটি পুলিশ বিভাগকে বিভ্রান্ত করেছে। বর্তমানে পুলিশের সামনে দুটি বড় প্রশ্ন রয়েছে, দুই পুলিশকর্মীর মধ্যে কি কোনও বিষয়ে তর্ক হয়েছিল এবং তারা একে অপরের উপর গুলি চালায়? নাকি এই ঘটনার সাথে কোনও তৃতীয় ব্যক্তি জড়িত?
ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই গুরুদাসপুরের সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) আদিত্য ডালবলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তের দায়িত্ব নেন। পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, কার্তুজের খোসা এবং অন্যান্য প্রমাণের নমুনা সংগ্রহ করেছে। কোন অস্ত্র থেকে এবং কোন দিক থেকে গুলি চালানো হয়েছে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যেহেতু এলাকাটি আন্তর্জাতিক সীমান্তের খুব কাছাকাছি তাই নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে। পুলিশ বর্তমানে এই মামলায় আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেয়নি। পুলিশ শুধুমাত্র জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। এই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে এবং অন্যান্য পোস্টগুলোকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।