ইরান যুদ্ধের মাঝেই সৌদিতে গিয়ে যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে দেখা করলেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এই সাক্ষাতের আবহে এবার জল্পনা তৈরি হয়েছে, তাহলে কি ইরান যুদ্ধে এবার ঝাঁপাবে পাকিস্তান? এমনিতেই পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদির সামরিক চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির আওতায়, এই দুই দেশের কারও ওপরে যদি অন্য একটি দেশ হামলা করে, তাহলে তা উভয় দেশের ওপরে হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের হামলায় জেরবার সৌদি। ওদিকে পাকিস্তান সরকার আবার ইরানের বর্তমান শাসকদের পক্ষে আছে। সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের জন্য পরিস্থিতি বেশ জটিল হতে পারে।

ইরান যুদ্ধের জেরে পাকিস্তানি সেনা এমনিতেই সমস্যায় পড়েছে। এতদিন ধরে ইরান থেকে অবৈধ ভাবে যে তেল তারা পাচার করে আনত, সেই 'ব্যবসা' আপাতত বন্ধ। এদিকে পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন সেনার বিমান রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই পরিস্থিতিতে ইরানের হামলার আশঙ্কাতেও ভুগছে পাকিস্তান। এদিকে ইরানের হামলার বিরুদ্ধে আবার রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে পাকিস্তান।
ইরান ইতিমধ্যেই সৌদি আরবের ভূখণ্ডে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। সৌদিতে অবস্থিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ শোধনাগারকেও নিশানা করা হয়েছে। কিন্তু সৌদি-পাক চুক্তি বাস্তবায়নের পক্ষে কোনও পদক্ষেপ করতে এখনও দেখা যায়নি ইসলামাবাদকে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক্স-এ এই সব হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং সৌদি আরবের সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। তবে সৌদি আরবকে কোনও রকম সামরিক সহায়তা করা বা ইরানের আক্রমণের জবাব দেওয়ার বিষয়ে কোনও শব্দ ব্যয় করেননি শেহবাজ। এই আবহে জল্পনা চলছে, পাকিস্তান কি এই চুক্তি মানবে না, নাকি বাধ্য হয়ে সৌদিকে সাহায্য করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে হবে পাকিস্তানকে। শেহবাজ এবং মুনিরের সাম্প্রতিক এই সৌদি সফরে সেই জল্পনা আরও বেড়েছে। এমনিতেও পাকিস্তান বর্তমানে আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ জড়িয়ে রয়েছে। এই আবহে তারা সৌদিকে কতটা সাহায্য করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। অন্যদিকে নিজেদের দেশে ইরানপন্থী আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালাচ্ছে পাকিস্তান। সব মিলিয়ে উভয় সংকট পরিস্থিতিতে আছে পাকিস্তান।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সৌদি আরবে ইরানি মিসাইল হামলায় প্রাণ গিয়েছে এক মার্কিন সেনার। এদিকে সৌদিতে ইরানের ক্রমাগত মিসাইল হামলার জেরে ভয়ে দূতাবাস খালি করার নির্দেশ দিয়েছে আমেরিকা। অবিলম্বে অসামরিক মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরব ছাড়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে সৌদি আরবে ইরানের মিসাইল হামলায় ২ জন বাংলাদেশিরও প্রাণ গিয়েছে। সৌদির তেল 'আটকে' আছে হরমুজ প্রণালীতে। ইরানের ক্রমাগত হামলার জেরে এই অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহণ করা যাচ্ছে না। এর জেরে বিপুল পরিমাণে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে সৌদিকে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, সম্প্রতি সৌদি আরবে ইরানি মিসাইল হামলায় প্রাণ গিয়েছে এক মার্কিন সেনার। এদিকে সৌদিতে ইরানের ক্রমাগত মিসাইল হামলার জেরে ভয়ে দূতাবাস খালি করার নির্দেশ দিয়েছে আমেরিকা। অবিলম্বে অসামরিক মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরব ছাড়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে সৌদি আরবে ইরানের মিসাইল হামলায় ২ জন বাংলাদেশিরও প্রাণ গিয়েছে। সৌদির তেল 'আটকে' আছে হরমুজ প্রণালীতে। ইরানের ক্রমাগত হামলার জেরে এই অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহণ করা যাচ্ছে না। এর জেরে বিপুল পরিমাণে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে সৌদিকে।
{{/usCountry}}